বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই এবার তৃণমূলের তথাকথিত ‘বাহুবলী’ রাজনীতির মুখোশ খুলে গেল। ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিরোধী দমনে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং সবচেয়ে ন্যাক্কারজনকভাবে নারীদের শ্লীলতাহানির মামলায় গ্রেফতারির ভয়ে অবশেষে আদালতে মাথা নত করতে বাধ্য হলেন দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মালা রায়। পুলিশি গ্রেফতারি এড়াতে বুধবার তড়িঘড়ি আলিপুর আদালতে গিয়ে সপুত্র আত্মসমর্পণ করেন এই হেভিওয়েট নেত্রী।
আদালত তাঁদের ১,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিলেও, একজন নারী সাংসদ ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা এই ধরণের জঘন্য অভিযোগ তৃণমূলের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাকেই প্রকাশ করে দিচ্ছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।
আরও পরুনঃ ‘পুস্পা’ ফুউ-উ-উ-স; ‘কলঙ্ক’ ধুয়ে শান্তিতে চলছে পুনর্নির্বাচন
মালা রায়ের উসকানিতেই হামলা, মূল টার্গেট মহিলারা!
গত ৪ মে টালিগঞ্জের ১ নম্বর সাধু তারাচরণ রোড এলাকায় যে নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়েছিল, তার নেপথ্যে সরাসরি তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের উসকানি ও উপস্থিতি ছিল বলে এফআইআর-এ স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ক্ষমতা হারানোর রাগে অন্ধ হয়ে সাংসদ ও তাঁর ছেলে নির্বাণ রায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল আশ্রিত একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী চড়াও হয় স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে।
সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হলো, তৃণমূলের এই গুন্ডাবাহিনী রাজনৈতিক লড়াইয়ের নামে ঘরের মহিলাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। বিজেপি-র মহিলা কার্যকর্তা এবং পরিবারের নারী সদস্যদের শালীনতা নষ্ট করতে তাঁদের আপত্তিকরভাবে স্পর্শ ও শ্লীলতাহানি করা হয়। একজন নারী সাংসদের নাকের ডগায় কীভাবে মহিলাদের ওপর এই ধরণের বর্বরতা চলে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ধিক্কার উঠছে।

অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের দাপট ও প্রাণনাশের হুমকি
অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে, সাংসদের অতি ঘনিষ্ঠ অনুগামী রানা মান্না ওরফে গোল্টু নামের এক দুষ্কৃতী প্রকাশ্যেই আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে বিজেপি কর্মীদের এবং তাঁদের পরিবারকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় যে শাসক দলের প্রশ্রয়ে অস্ত্রের কারবার এবং সিন্ডিকেট রাজ চলছিল, এই ঘটনা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।
আরও পড়ুনঃ পদ আছে, কিন্তু ক্ষমতা উধাও ববির যেকোনও মুহূর্তে ইস্তফা!
আইনি সাঁড়াশি চাপ: পার পেলেন না হেভিওয়েট নেত্রীও
টালিগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর এন.এস. বৈদ্যর রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং অস্ত্র আইনের একাধিক কড়া ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে:
নারীর শ্লীলতাহানি ও নির্যাতন: BNS ধারা 74 ও 79
সশস্ত্র দাঙ্গা ও বেআইনি জমায়েত: BNS ধারা 189(2), 190, 191(2), 191(3)
মারধর ও অপরাধমূলক হুমকি: BNS ধারা 115(2) ও 351(2)
অবৈধ অস্ত্র আইন: Section 25(1B)(a) Arms Act
এতদিন পুলিশকে পকেটে পুরে রাখা তৃণমূল নেতারা রাজ্যে ক্ষমতা বদল হতেই টের পাচ্ছেন আইনের জোর। পুলিশ প্রশাসন কড়া হতেই আর কোনো উপায় না দেখে তড়িঘড়ি আদালতে ছোটেন মালা রায়। এই আত্মসমর্পণের ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা হিংসা ও নারী নির্যাতনের অভিযোগগুলো কতটা সত্য ছিল। এই ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।



