আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুন মামলার তদন্তে ঐতিহাসিক মোড়। গত ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে চার্জশিট পেশের পর থেকে পরবর্তী ১ বছর ৭ মাসে সিবিআই আসলে কী তদন্ত করল, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। আর তার পরেই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠনের নির্দেশ দিল আদালত। আগামী ২৫ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি, ওই দিনই সিট-কে নতুন তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে হাই কোর্টে।
আরও পড়ুনঃ ১৩ বছর পর হাওড়ায় পুরভোট এই বছরেই; ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
আদালতের নির্দেশে জানানো হয়েছে, নতুন এই বিশেষ তদন্তকারী দল আর জি কর কাণ্ডের সেই অভিশপ্ত রাত থেকে শুরু করে নির্যাতিতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত ঠিক কী কী ঘটেছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ ঘটনাক্রম নতুন করে খতিয়ে দেখবে। বুধবার আদালতে সিবিআই দাবি করে, তারা ইতিমধ্যেই ৭০ থেকে ৮০ জন সাক্ষীর বয়ান নথিভুক্ত করেছে। তবে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, তদন্তের স্বার্থে সিবিআই মামলার প্রয়োজনীয় সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে পারবে এবং কাউকে রেয়াত করা হবে না।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নাইট শিফটের পর আর জি করের সেমিনার রুমে তরুণী চিকিৎসককে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। কলকাতা পুলিশ সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করার পর হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার নেয় সিবিআই। শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও, এই তদন্তে সন্তুষ্ট ছিলেন না নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের দাবি ছিল, রাঘববোয়ালরা এখনও আড়ালে রয়ে গিয়েছে।
সম্প্রতি রাজ্যে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার পরিবর্তন হতেই, সুবিচারের দাবিতে পানিহাটি আসন থেকে বিজেপির টিকিটে লড়াই করেছিলেন নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। ক্ষমতায় এসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে আর জি কর মামলার ফাইল নতুন করে খোলার নির্দেশ দেন। নবান্নের নির্দেশে ইতিমধ্যেই তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ স্বস্তিতে শিয়ালদহ ডিভিশনের লক্ষ লক্ষ নিত্যযাত্রী; শিয়ালদহ স্টেশন থেকে সাফ ২৫০টি দোকান
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার রাতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনও প্রভাবশালী মন্ত্রী পুলিশ ও প্রশাসনকে আড়াল করতে মেসেজে বা ফোনে কোনও বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছিলেন কি না, তা এবার সিবিআই-এর নবগঠিত ‘সিট’ খতিয়ে দেখবে। হাই কোর্টের এই কড়া মনোভাব এবং নতুন সিট গঠনের পর আর জি করের সুবিচারের লড়াইয়ে ওপার বাংলার রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থায় এক নতুন তোলপাড় শুরু হয়েছে। ২৫ জুন সিটের পেশ করা রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।



