Thursday, 21 May, 2026
21 May
HomeকলকাতাKolkata: পদ আছে, কিন্তু ক্ষমতা উধাও ববির যেকোনও মুহূর্তে ইস্তফা!

Kolkata: পদ আছে, কিন্তু ক্ষমতা উধাও ববির যেকোনও মুহূর্তে ইস্তফা!

অতীতে বোনা সেই ‘রক্তবীজে’র চারাই আজ মহাবৃক্ষ হয়ে কামড় বসাচ্ছে তৃণমূলের দুর্গে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

একেই বোধহয় বলে রাজনীতির নিষ্ঠুরতম পরিহাস! কলকাতা পুরসভায় এখনও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। মহানাগরিকের চেয়ারে আলো করে বসে আছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও চেতলার অগ্রণী নেতা ফিরহাদ (ববি) হাকিম। অথচ সেই পুরসভার বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট থেকেই ক্ষেপণাস্ত্রের মতো একের পর এক নোটিস আছড়ে পড়ছে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের অফিস, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস এবং কালীঘাটে তাঁর মায়ের বাড়ির দেওয়ালে।

পরিস্থিতি কতটা জটিল, তা বোঝা গেছিল গত সোমবারের এক হাইভোল্টেজ বৈঠকে। সূত্রের দাবি, মেয়র এবং মেয়রের পারিষদদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে ববি হাকিমকে সরাসরি দিদির প্রশ্ন ছিল— “হচ্ছেটা কী? এই সব নোটিস কে পাঠাচ্ছে? কেন পাঠাচ্ছে? তুমি কী করছ তাহলে?” 
জবাবে চরম অসহায়তা প্রকাশ করেন কলকাতার মেয়র। জানা গেছে, তিনি কার্যত হাত তুলে দিয়ে দিদিকে বলেন, কে বা কারা এই নোটিস পাঠাচ্ছে তা তিনি নিজেই জানেন না! তাঁকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই পুরসভার আধিকারিকরা এই চিঠি পাঠাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ জ্বালানি সাশ্রয়ে চালু হোক ট্রাম রুট; দাবি পরিবেশ কর্মীদের

ফিরহাদ হাকিমের এই জবাবে স্পষ্ট যে, পুরবোর্ডে ক্ষমতা থাকলেও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এখন আর তাঁর হাতে নেই। রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের রাশ এখন নতুন সরকারের হাতে, ফলে রুল বুক মেনে চলা পুর-আমলারা মেয়রের তোয়াক্কা করছেন না।

এরই মধ্যে শহরের সিংহভাগ তৃণমূল কাউন্সিলরকে এখন আর রাস্তায় বেরোতেই দেখা যাচ্ছে না। উল্টে রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন—বেআইনি নির্মাণে মদত দেওয়া বা তোলাবাজির অভিযোগে ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে বহু কাউন্সিলরই এখন তলে তলে বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা ও আপোসের রাস্তা খুঁজছেন। ফলে পুরপ্রধান হয়েও ববি হাকিমের অবস্থা এখন রূপকথার ‘নিধিরাম সর্দারে’র মতো—পদ আছে, কিন্তু ক্ষমতা উধাও।

বর্তমান মেয়রের সামনে পরিস্থিতি এখন আরও ঘোরালো। নিয়ম অনুযায়ী, ৭ দিনের মধ্যে বেআইনি অংশ না ভাঙলে বা সন্তোষজনক জবাব না মিললে পুরসভা নিজেই বুলডোজার দিয়ে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস ও লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙতে শুরু করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাবুন তো দৃশ্যটা কেমন লাগবে—তৃণমূলের মেয়র ফিরহাদ হাকিমের জমানায় তাঁরই দলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’-এর পারিবারিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি পুরসভার লোক দিয়ে ভাঙা হচ্ছে! এই চরম অস্বস্তি এড়াতেই মেয়র ঘনিষ্ঠ মহলে খবর, যেকোনও মুহূর্তে কলকাতার মহানাগরিকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিতে পারেন ফিরহাদ হাকিম। যদিও এই বিষয়ে বিধানসভা চত্বরে দ্য ওয়াল প্রশ্ন করলে ববি হাকিম স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “এসব কথা উঠছে কোথা থেকে?” তবে এও ঠিক রাজনীতিতে কেউই আগাম ইস্তফার কথা জানান না।

কলকাতার পুর-ইতিহাস বলছে, রাজ্যে শাসক দল আর পুরসভার শাসক দল আলাদা হওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০০০ সালে তৃণমূল যখন পুরসভায় বোর্ড গড়েছিল, তখন মেয়র হয়েছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায় আর রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু সুব্রতবাবুকে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি। উল্টে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পূর্ণ সহযোগিতায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে কলকাতার জল সরবরাহ ও নিকাশির ভোল বদলে দিয়েছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সে ছিল এক গঠনমূলক সংস্কারের অধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ জুন থেকেই চালু পরিষেবা, পিঙ্ক কার্ড দেওয়া হবে মহিলাদের

কিন্তু ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন বিজেপি ও তৃণমূলের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, তা চরম ব্যক্তিগত বৈরিতায় রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর জন্য অনেকাংশে দায়ী তৃণমূলেরই কিছু কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ অতি-উৎসাহী নেতা। যাঁদের নির্দেশে একুশের ভোটের পর শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সচিব থেকে শুরু করে তাঁর দেহরক্ষীকে বারবার পুলিশ দিয়ে হেনস্থা করা হয়েছে, রোজ ভবানী ভবনে ডেকে জেরা করা হয়েছে। অতীতে বোনা সেই ‘রক্তবীজে’র চারাই আজ মহাবৃক্ষ হয়ে কামড় বসাচ্ছে তৃণমূলের দুর্গে।

নবান্নের এক শীর্ষ আমলার মতে, ফিরহাদ হাকিম যদি সত্যিই পদত্যাগ করেন, তবে তৃণমূলের পক্ষে তড়িঘড়ি নতুন মেয়র নির্বাচন করে বোর্ড টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব হবে। কাউন্সিলরদের ভাঙন ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নবান্ন তখন কলকাতা পুরসভায় ‘প্রশাসক’  বসিয়ে দিতে পারে। এবং তারপর সুবিধাজনক সময় দেখে নির্ধারিত সময়ের আগেই কলকাতা পুরসভার ভোট এগিয়ে আনা হতে পারে।

আপাতত কলকাতা পুরসভার অলিন্দে একটাই ফিসফাস—ববি হাকিমের মেয়র জীবনের কাউন্টডাউন কি তবে শুরু হয়ে গেল?

 

 

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন