Saturday, 18 April, 2026
18 April
HomeকলকাতাKolkata: হট টপিক; কলকাতার বাস-ট্রাম-মেট্রোর ইতিকথা

Kolkata: হট টপিক; কলকাতার বাস-ট্রাম-মেট্রোর ইতিকথা

কলকাতা সব সময় “একটির বদলে আরেকটি” বেছে নেয় না; বেছে নেয় একটির সাথে আরেকটি।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

কলকাতায় “বাস না মেট্রো” – ইদানীং হট টপিক। সেক্টর V–শিয়ালদহ–এস্প্ল্যানেড হয়ে হাওড়া পর্যন্ত ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রোর চাকা ঘোরার পরেই প্রশ্ন উঠেছে—এবার কি তবে বাস বিদায় নিচ্ছে? সত্যিই কি তাই? চলুন, জেনেনি ইতিহাস, পরিসংখ্যান আর বাস্তব ব্যবহার। শহরে বাস চলার বয়স প্রায় এক শতাব্দী। ব্রিটিশ আমলেই বেসরকারি গাড়ি শহরময় চলতে শুরু করে; স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহনের (CSTC ইত্যাদি) হাত ধরে “বাস” কলকাতার নিত্যদিনের সঙ্গী। টালিগঞ্জ–এস্প্ল্যানেড ছিল এক সময়ের প্রাণরেখা; পরে উত্তর–দক্ষিণে গলিপথ থেকে রাজপথ, গড়িয়া, দক্ষিণেশ্বর, শ্যামবাজার—অজস্র পাড়া–মহল্লার মাটি ছুঁয়ে বাসই পৌঁছে দিয়েছে “দরজায় দরজায়”। মেট্রো? ১৯৮৪–তে ভারতবর্ষের প্রথম মেট্রোর জন্ম কলকাতায়—এসপ্ল্যানেড থেকে টালিগঞ্জ। আজ চল্লিশের দোরগোড়ায় সেই যাত্রা আরও বড়, আরও গভীর। ইস্ট–ওয়েস্ট করিডর নদীর তলা পেরিয়ে দু’হাব (হাওড়া–শিয়ালদহ) জুড়েছে—এ এক বিরল সাফল্য।

কলকাতার চলাচলের শিকড় কিন্তু রেলেরই—স্থানীয়/সাবারবান লোকাল ট্রেনের ইতিহাস উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে। ১৮৫৪–র ১৫ অগস্ট হাওড়া–হুগলি যাত্রায় পূর্ব ভারতে যাত্রীবাহী রেলের সূচনা; পরের শতকে শাখা–শাখায় বিস্তার—শিয়ালদহ–কল্যাণী, বজবজ, ডানকুনি, বারাসত–বসিরহাট, দক্ষিণে সোনারপুর–ডায়মন্ড হারবার–কাকদ্বীপ—এই লোকাল নেটওয়ার্কই কলকাতা–উপকণ্ঠকে এক অদৃশ্য সেতুতে বেঁধে দিয়েছে। সেই সেতুর ওপরেই বাস–ট্রাম–মেট্রো একে অপরকে সম্পূরক করে আজও শহরটা চলে।

আরও পড়ুনঃ ষড়যন্ত্রের শিকার বিবেকানন্দ! বিদ্যাসাগর কেন কেড়ে নিয়েছিলেন নরেন্দ্রনাথের মুখের গ্রাস?

ট্রামের কথা না বললে অন্যায় হবে। ১৮৭৩–এ ঘোড়াটানা ট্রাম; ১৯০২–এ বিদ্যুৎচালিত—কলকাতার রাস্তাঘাট, বাজার, অফিসপাড়া—সব কিছুর সঙ্গে ট্রাম জুড়ে ছিল। দুঃখের কথা, দূরদর্শী পরিকল্পনা আর ধারাবাহিক রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিতে আজ ট্রাম নেটওয়ার্ক ক্ষয়িষ্ণু; ঠিকমতো আলাদা ট্র্যাক, সিগন্যাল অগ্রাধিকার, আধুনিক রোলিং স্টক থাকলে অন্য চিত্রও হতে পারত। তবু যে কয়টা লাইন আজও বেঁচে—সেগুলো স্মরণ করায়, শহরের পরিবহনে “স্লো–বাট–সিউর” মোডেরও জায়গা আছে।

এবার আসি বর্তমান বিতর্কে। শিয়ালদহ–সেক্টর V, এসপ্ল্যানেড–হাওড়া ময়দান চালু হওয়ার পর থেকেই শোনা যাচ্ছে—“বাস বন্ধ হয়ে যাবে।” বাস্তবটা কী? মেট্রো থামে নির্দিষ্ট স্টেশনে; মাঝখানের হাজারো গলি, মোড়, পাড়া—সেগুলোয় পৌঁছয় কে? বাস। শিয়ালদহ–হাওড়া—সোজা লাইনে মেট্রো দারুণ; কিন্তু এমজি রোড, মৌলালি, বড়বাজারের ভেতরকার অগুনতি গন্তব্যে যাদের উঠানামা—তাদের শেষ মাইলটা বাসই দেয়। করুণাময়ী, এসপ্ল্যানেড, শিয়ালদহ বা হাওড়ায় বড় লাগেজ নিয়ে যাত্রীরা অনেকেই বাস বেছে নেন—চেয়ারে বসে উঠানামা, গ্রেডিয়েন্ট কম, ভিড়ের চাপ তুলনায় কম। আবার সল্টলেক/নিউটাউনে সেক্টর–ভিত্তিক নির্দিষ্ট আবাসিক পকেট (BA–BD ব্লক, AJ–AL, মহিষবাথান, পুলিশ হাউজিং, ইকোপার্কের পার্শ্ববর্তী আর্চগুলো)– মেট্রো স্টেশন থেকে “ডোরস্টেপ” পৌঁছে দেয় রুটেড বাস/মিনি। দক্ষিণ কলকাতায় গড়িয়া–বাঘাযতিন–সন্তোষপুর–পাটুলি–রাজপুর এলাকার কানেক্টিভিটি এখনও বাস–নির্ভর। উত্তরদিকে দক্ষিণেশ্বর, বরাহনগর, শ্যামবাজার–হাটখোলা–বেলেঘাটা—সেখানেও একই ছবি। তাই “বাস বনাম মেট্রো” নয়, বাস + মেট্রো + লোকাল ট্রেন—এই ত্রয়ীই কলকাতার শ্বাস–প্রশ্বাস।

সংখ্যার দিকে তাকালেও বোঝা যায়, মেট্রো যতই বাড়ুক, বাসের প্রয়োজন কমছে না। অফিস টাইমে মেট্রো স্টেশন–টু–স্টেশন যাত্রা “সবচেয়ে দ্রুত”; কিন্তু স্টেশন থেকে বাড়ি/অফিসের শেষ ০.৫–৩ কিমি—এই ‘লাস্ট মাইল’ বাস (এবং ফিডার শাটল) ছাড়া ভরসা কম। একই রুটে মেট্রোর ওঠানামার ভিড় এড়িয়ে অনেকে সরাসরি বাসে যান—বিশেষত বয়স্ক, শিশু, লাগেজ, বা “একটানে সিটিং”–চাহিদা থাকলে।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যে ম্যালেরিয়ার চোখরাঙানি! কেন সংক্রমণ নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ রাজ্যে?

ইতিহাসও বলে এই “সহাবস্থান”-ই কলকাতার শক্তি। টালিগঞ্জ–এস্প্ল্যানেডে যখন মেট্রো এল, তবু টালিগঞ্জ–রাসবিহারী–ময়দান–ধর্মতলার বাস মরেনি; বরং তারা নিজেদের রুট, টাইমিং, ফ্রিকোয়েন্সি সাজিয়ে নিল। আজ শিয়ালদহ–সেক্টর V, এসপ্ল্যানেড–হাওড়া চালু—সামনে আরও এক্সটেনশন—তবু সল্টলেক–নিউটাউন–এয়ারপোর্ট–বারাসত অক্ষের আনাচে–কানাচে বাসই ‘কভারেজ’ বাড়ায়, মেট্রো দেয় ‘ক্যাপাসিটি’ আর ‘স্পিড’। পরিবহন–পরিকল্পনার শিক্ষাটা সোজা—কভারেজ + ক্যাপাসিটি + কানেক্টিভিটি = স্মার্ট সিটি মোবিলিটি।

তাই আমাদের সংক্ষেপ উত্তর—বাস বন্ধ হচ্ছে না। হতে পারে, কিছু ওভারল্যাপিং রুট র‍্যাশনালাইজড হবে, ফিডার/শাটল মডেল বাড়বে, ফ্রিকোয়েন্সি সময়ভিত্তিক হবে—কিন্তু বাস, লোকাল ট্রেন, মেট্রো—তিনটিই একসাথে চলবে। কারণ কলকাতার জনজীবনে গণপরিবহনের গুরুত্ব অপরিসীম; এ শহরকে বাঁচিয়ে রাখার অক্সিজেন এটাই।

শেষ কথা—কলকাতা সব সময় “একটির বদলে আরেকটি” বেছে নেয় না; বেছে নেয় একটির সাথে আরেকটি। ইতিহাস তাই বলে; আজকের খবর, মাঠের পরিসংখ্যান, আর আপনার–আমার প্রতিদিনের যাত্রাও তাই প্রমাণ করে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন