বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা:
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের জামিন পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপ দাগল ‘জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট’। এক দীর্ঘ পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তরুণ চিকিৎসকদের এই সংগঠন সরাসরি অভিযোগ করেছে, এক তরুণী চিকিৎসকের মর্মান্তিক মৃত্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি এবং ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। জনগণের আবেগ নিয়ে খেলা করার পাশাপাশি রাজনৈতিক অভিসন্ধি এবার সমাজমাধ্যমে পুরোপুরি নগ্ন হয়ে পড়েছে বলে তাদের দাবি।
আরও পড়ুনঃ হাই কোর্টের নির্দেশ খারিজ! সন্দীপকে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট; ক্ষুব্ধ নির্যাতিতার পরিবার
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রকাশের পর সিবিআই তদন্তের সার্বিক কার্যকারিতা নিয়েও বিস্ফোরক সব প্রশ্ন তুলে ধরেছে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের এই মূল মঞ্চ। তাদের মূল প্রশ্ন হলো, যে মামলায় তথ্যপ্রমাণ লোপাটের মতো মারাত্মক অভিযোগ সরাসরি ছিল এবং অভিযুক্ত এত দিন হেফাজতে ছিল, সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করতে কেন ব্যর্থ হলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা? তদন্তের এই ঢিলেঢালা ভাব ও বেহাল দশা কার স্বার্থ রক্ষা করছে এবং এই চরম ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তোলা হয়েছে ফ্রন্টের তরফ থেকে।
উল্লেখ্য, আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলার মাঝেই হাসপাতালের অভ্যন্তরে দীর্ঘ দিন ধরে চলা বিপুল আর্থিক অনিয়মের চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ সামনে এসেছিল। হাসপাতালের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারের অ্যাকাউন্টে টাকা হস্তান্তরের সময় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও নয়-ছয় করার অভিযোগে সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশ, নেপালের পথে ভারতে সরকার বদলের প্ল্যান? মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ প্রকাশ রাজের
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আর্জি জানানো হলে তা খারিজ করে দিয়েছিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তৎকালীন সময়ে হাইকোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ছিল, সরকারি অর্থ আত্মসাতের এই দুর্নীতি সরাসরি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া অভিযুক্ত অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় বাইরে এলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করার প্রবল আশঙ্কা প্রকাশ করে হাইকোর্ট তাঁর আবেদন নাকচ করেছিল।
হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ১৮ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টের তোড়জোড় শুরু করেন সন্দীপের আইনজীবীরা। শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালতের বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ হাইকোর্টের নির্দেশ বাতিল করে সন্দীপ ঘোষের জামিন মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত জানায়, যা ঘিরে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতি ও চিকিৎসা মহলে নতুন করে চরম আলোড়ন তৈরি হয়েছে।


