কলকাতা / মুম্বাই:
ভারতীয় সংগীত ও বিনোদন জগতের এক অনন্য নক্ষত্র, প্রবাদপ্রতীম শিল্পী কিশোর কুমার। ১৯২৯ সালের ৪ অগাস্ট তৎকালীন সেন্ট্রাল প্রভিন্সের (বর্তমান মধ্যপ্রদেশ) খাণ্ডওয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন আভাস কুমার গঙ্গোপাধ্যায়। ভারতীয় বিনোদনজগতে তিনি একাই ছিলেন এক আস্ত প্রতিষ্ঠান—গায়ক, অভিনেতা, সুরকার, পরিচালক, প্রযোজক ও গীতিকার। ৪ অগাস্ট তাঁর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে দেশজুড়ে তাঁর অজস্র ভক্ত ও সংগীতপ্রেমীরা শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘রেস্ট অ্যান্ড রিকভারি’; আধুনিক ফিটনেস বিজ্ঞানের নতুন দিশা
‘৪’ সংখ্যার অদ্ভুত সংযোগ ও চিরসবুজ সৃষ্টি
কিশোর কুমারের পুরো জীবনের সঙ্গে ‘৪’ সংখ্যাটির একটি দারুণ কৌতুহল উদ্দীপক সম্পর্ক রয়ে গিয়েছে:
-
৪ অগাস্ট: তাঁর শুভ জন্মদিন।
-
৪র্থ সন্তান: পরিবারে চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।
-
৪টি বিয়ে: ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চারবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।
-
৪টি বাংলা ছবি: অভিনেতা হিসেবে তাঁর অভিনয়জীবন কেবল ৪টি বাংলা সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।
ভোকাল ট্রেনিং ছাড়া গানের চূড়ায়, অনন্য ‘ইউডলিং’
কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষা বা ‘ভোকাল ট্রেনিং’ না নিয়েও কীভাবে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বকালের অন্যতম সেরা গায়ক হওয়া যায়, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ কিশোর কুমার।
-
ইউডলিং (Yodeling): পশ্চিমী সংগীতশিল্পী জিমি রজার্স ও টেক্স মর্টনের গান শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘ইউডলিং’ আয়ত্ত করেন, যা পরবর্তীতে হিন্দি ও বাংলা সঙ্গীতে তাঁর সিগনেচার স্টাইল হয়ে ওঠে।
-
লতাজির গানে কণ্ঠ: ‘আকে সিধি লগি দিল পে’ গানটিতে লতা মঙ্গেশকরের মহিলা কণ্ঠে গাওয়ার কথা থাকলেও, অদ্ভুত প্রতিভায় পুরুষ ও নারী—উভয় কণ্ঠেই একা গেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন কিশোর কুমার।
-
‘পাঁচ রুপইয়া বারা আনা’: ইন্দোরে কলেজ জীবনের দিনগুলোতে ক্যানটিনের ধারের টাকা শোধ করা নিয়ে এবং মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাটের বাইরে ‘কিশোর হইতে সাবধান’ লিখে রাখার মজার অভিজ্ঞতাই পরে জন্ম দিয়েছিল বিখ্যাত গান—‘পাঁচ রুপইয়া বারা আনা’।
আরও পড়ুনঃ লন্ডনে চালুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাময়িকভাবে বন্ধ হলদিরাম’স-এর প্রথম আউটলেট
আটটি ফিল্মফেয়ার ও অনন্য সম্মান
প্রায় চার দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে অজস্র কালজয়ী গান উপহার দিয়ে তিনি অর্জন করেছেন ৮টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। মধ্যপ্রদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতে প্রবর্তন করেছে ‘কিশোর কুমার পুরস্কার’।
১৯৮৭ সালে মাত্র ৫৮ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এই মহীরুহের প্রয়াণ ঘটলেও, তাঁর ‘মেরে স্বপ্নো কী রানি’, ‘ইয়ে শাম মস্তানি’, ‘রূপ তেরা মস্তানা’ বা ‘চিঙ্গারি কোই ভড়কে’-র মতো গানগুলি আজও আট থেকে আশি—সব প্রজন্মের মন জয় করে রেখেছে।


