একসময় যেমন মুম্বাই বিমানবন্দরের কর্মকর্তা এবং সেখানে নিযুক্ত রাজ্য পুলিশের রাষ্ট্রীয় প্রভাব ছিল… ঠিক সেই কারণেই মুম্বাই বিমানবন্দরের কর্মকর্তা এবং ভেতরে নিযুক্ত রাজ্য পুলিশ নিজেরাই দাউদের দুবাই থেকে আসা চালানগুলোকে কাস্টমস চেকপয়েন্ট পার করে দিত।
তখন দুবাই থেকে সোনা নিয়ে আসা কুরিয়ার ( delivery man) ব্যাগটা বিমানবন্দরের ডাস্টবিনে রেখে দিত, আর পুলিশ সেটা তুলে বিমানবন্দরের বাইরে নিয়ে যেত।
আরও পড়ুনঃ ভাতা আছে চাকরি নেই, দাদাগিরি আর তোলাবাজিতে অতিষ্ঠ মানুষ চিঁড়ে ভিজতে দিল না
আপনি কি জানেন সেই সময় বিমানবন্দরে দাউদের মাসিক খরচ কত ছিল? …৭৫ কোটি। বিমানবন্দরের সমস্ত কর্মী এই টাকার জোগানে দোদুল্যমান ছিল, এবং “D” company মুম্বাই থেকে সাপ্তাহিক টাকা তুলে বিমানবন্দরকে মাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করত। 1990 সালে মুম্বাই বিমানবন্দরে পোস্টিং পাওয়াটা স্বর্গে পোস্টিং পাওয়ার মতোই ছিল
গত ১৫ বছর ধরে কলকাতা বিমানবন্দরে ঠিক একই ধারা অনুসরণ করা হয়েছে… এবং ঠিক যেভাবে দাউদ মুম্বাই বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ করত, অভিষেক ব্যানার্জীও একইভাবে কলকাতা বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ করেছে। কলকাতা বিমানবন্দর আসলে থাইল্যান্ড রুটের একটি হাব। থাইল্যান্ড থেকে আসা সোনা এখানে এসে পৌঁছায়। কুরিয়ার ডলারগুলো নিয়ে ব্যাংকক থেকে সেই ডলার দিয়ে সোনা কেনে। বিদেশে গেলে ডলারের মূল্য আরও বেড়ে যায়। ধরুন, আপনি ভারতে ৯৪ রুপিতে একটি ডলার কিনলেন, সেই একই ডলার থাইল্যান্ড এবং হংকং-এ ৯৬-৯৭ রুপি হয়ে যাবে। ডলারটি বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় লাভ হয়। সেই টাকায় থাইল্যান্ডে কম দামে সোনা কেনাটাও আরেকটি লাভ। এই অর্থ কলকাতায় এসে পৌঁছায়। অভিষেক ব্যানার্জী এই পুরো শৃঙ্খলটি চালাচ্ছে। অভিষেক ব্যানার্জী সিন্ডিকেট প্রতি মাসে থাইল্যান্ড থেকে ৫000 কোটি রুপিরও বেশি মূল্যের সোনা কলকাতায় নিয়ে আসে। তিনি তার দলের কয়েকজন নির্বাচিত সদস্যকে কুরিয়ার হিসেবে নিযুক্ত করেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘অনাচার কর যদি, রাজা তবে ছাড়ো গদি’; শ্রষ্টার জন্মমাসেই বাংলায় খান খান ‘হীরক রানী’
বিমানবন্দরের কর্মী, কর্মকর্তা এবং পুলিশকে এই কুরিয়ারদের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হয়। অভিষেক ব্যানার্জী নিজে সরাসরি এটি করেন না। এই সিন্ডিকেটের নির্দিষ্ট দর রয়েছে। সর্বোপরি, সমস্ত কর্মী কলকাতায় থাকে, তাই সবকিছুই নির্ধারিত।
অর্থ প্রদানের হিসাব… কুরিয়ার যখন বিমানবন্দর থেকে ডলার নেয়, তখন সে রুপি পরিশোধ করে। প্রতি প্যাকেট ২,000 টাকা। অর্থাৎ ১0,000 ডলারের এক বান্ডিল/প্যাকেটের দাম 2000 টাকা। ডলার বহনকারী একজন কুরিয়ার কমপক্ষে ২ টি প্যাকেট, সর্বোচ্চ ১0 টি প্যাকেট নেয়। গড়ে, সে ৫ টি প্যাকেট নেয়। যাই হোক, প্রতি প্যাকেটে 2000 টাকা নির্দিষ্ট ঘুষ দেওয়ার পর, কুরিয়ারটি থাইল্যান্ডের ফ্লাইটে ওঠে।
ফেরার পথে কুরিয়ারটি সোনা নিয়ে আসে… সে কর্মকর্তাদের প্রতিটি বিস্কুটের (এক তোলা/১0 গ্রাম) জন্য ১৫000 টাকা দেবে। ধরা যাক কুরিয়ারটি ডলারের 2 টি প্যাকেট নিয়েছে, ফেরার পথে সে এই টাকা দিয়ে ১0 টি বিস্কুট আনবে। শুধু একজন কুরিয়ারই থাইল্যান্ডে যায় না, প্রতিদিন ১00 জনেরও বেশি # কুরিয়ার সেখানে যায়, বিকেলে বিমানবন্দরে নামে, সন্ধ্যায় থাইল্যান্ডে ফিরে যায়, সেখানেই রাত কাটায়। থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর পরই তারা ব্যাংককে সস্তার অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েছে, এক অর্থে তারা থাইল্যান্ডকে তাদের অস্থায়ী বাসস্থান বানিয়ে নিয়েছে।
তাই, কলকাতা বিমানবন্দর হলো অভিষেক ব্যানার্জীর জন্য সোনার ডিম পাড়া হাঁস। যেখানে প্রতি মাসে ৫000 কোটি টাকার সোনা এসে পৌঁছায়।
অনেক কিছু তথ্য ধিরে ধিরে আরও বের হবে


