বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি:
রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগণনায় নজিরবিহীন ও বিস্ময়কর তথ্য সামনে এল। ৩ রাউন্ডের গণনার শিট প্রকাশ্যে আসতেই জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ বিধায়ক তথা মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী একটি নির্দিষ্ট বুথে একটি ভোটও পাননি! নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০ নম্বর পোলিং স্টেশনে (বুথ) রবিউল আলম চৌধুরীর ঝুলিতে উঠেছে শূন্য (‘০’) ভোট।
অন্যদিকে, শুরুর দিকেই ৩ রাউন্ডের গণনা শেষে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীকে ৩,৭০৭ ভোটে পিছনে ফেলে বড় ব্যবধানে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার।
আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে পদ্মঝড়! বিরোধীরা ধুলিস্যাৎ, ঝড়ের গতিতে এগিয়ে বিজেপি
৩ রাউন্ডের শেষে ভোটগণনার পরিসংখ্যান:
নির্বাচন কমিশনের ৩ রাউন্ডের শিট অনুযায়ী রেজিনগর উপনির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত ভোটের হিসাব:
| প্রার্থী | রাজনৈতিক দল | ৩ রাউন্ড শেষে প্রাপ্ত ভোট |
| শাখারভ সরকার | ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) | ৭,৯৫১ |
| গোলাম নবি আজাদ | আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP) | ৪,২৪৪ |
| রবিউল আলম চৌধুরী | মমতা তৃণমূল কংগ্রেস | ৫৩৩ |
| আব্দুল্লাহিল কাফি | ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস | ৪১৪ |
| শফিউজ্জামান শেখ | গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস | ১৯৫ |
| মহম্মদ সৈয়দ | সিপিআই(এম) | ১৭৫ |
আরও পড়ুনঃ পরিবেশবান্ধব দুর্গাপুজো করলেই মিলবে ১ লক্ষ টাকা! বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রার
নাটকীয় প্রার্থীপদ, ‘অদৃশ্য’ দিন ও রেজিনগরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০১৩ সাল থেকে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের শক্ত ঘাটি আগলে রাখা রবিউল আলম চৌধুরী এবার ভোটের শুরু থেকেই চরম বিতর্ক ও নাটকের কেন্দ্রে ছিলেন।
-
মনোনয়ন প্রত্যাহারের ২ ঘণ্টার নাটক: গত ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ব্যক্তিগত কারণ ও নতুন দলের প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতার কথা জানিয়ে আচমকা প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছিলেন রবিউল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে লড়াইয়ে ফিরে আসেন তিনি।
-
ভোটের দিনে অনুপস্থিতি ও বুথ লুটের অভিযোগ: ভোটের দিন সকালে নিজের ভোটদান করার পরেই সারাদিন তিনি আর প্রকাশ্যে আসেননি বা বুথ পরিদর্শনে যাননি। তবে ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং অফিসারের (RO) কাছে লিখিত চিঠি দিয়ে রেজিনগর জুড়ে নজিরবিহীন ‘ভোট লুট ও কারচুপি’র অভিযোগ তুলে সমগ্র কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের (Re-poll) দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।
২০ নম্বর বুথে রবিউল আলমের একটি ভোটও না পাওয়া এবং ৩ রাউন্ড শেষে মাত্র ৫ ৩৩টি ভোটে আটকে থাকা রেজিনগরের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ও মমতা তৃণমূলের সংগঠন নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।


