রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় দলীয় কার্যালয় থেকে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর পাওয়া গেছে তাঁর লেখা এক মর্মস্পর্শী সুইসাইড নোট। নোটে তিনি রাজনীতিতে আসা নিয়ে আক্ষেপ ব্যক্ত করার পাশাপাশি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।
আরও পড়ুনঃ উদ্ধার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ; মমতার আমলের ডেপুটি স্পিকারের রহস্যমৃত্যু
সুইসাইড নোটের মূল বক্তব্য ও চিরকুটের বার্তা
উদ্ধার হওয়া চিঠিটিতে রাজনীতির অভিজ্ঞতা, দলের ভেতরের পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত নীতি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা:
-
দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার: চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন যে, ছাত্রাবস্থা (বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের জিএস) থেকে শুরু করে পুরো রাজনৈতিক জীবনে তিনি কোনো দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন না। তিনি লিখেছেন, “সারাজীবন এক পয়সা কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি।”
-
দলের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে না পারার আক্ষেপ: দলীয় অন্যায়ের সাথে তিনি কখনো আপস করতে না পারলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে খোলাখুলি প্রতিবাদ না করতে পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
-
অপমান ও টিআরডিএ (TRDA) বিতর্ক: তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটিতে তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতা নিয়ে ওঠা গুঞ্জন খারিজ করে তিনি জানান, সাধারণ মিটিং ছাড়া টেন্ডার বা প্ল্যান পাসের মতো আর্থিক বিষয়ে তাঁর কোনো ভূমিকা বা ক্ষমতা ছিল না। তাঁকে হেয় করার অপচেষ্টাকে ধিক্কার জানিয়ে লিখেছেন, “আজ তাই মনে হচ্ছে, রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে।”
-
পরিবারকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ: নিজের বংশের তরুণ প্রজন্মকে সরাসরি রাজনীতি এড়িয়ে নিজ নিজ পেশায় মনোনিবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
-
শিক্ষক জীবনের স্মৃতি ও পরম শ্রদ্ধা: রাজনীতির বাইরে নিজের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনো দিন ক্লাস ফাঁকি দেননি এবং বিনামূল্যে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়িয়ে ছাত্রদের অগাধ ভালোবাসা পেয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ বিপুল টাকা-সোনা উদ্ধার; গ্রেফতার অনুব্রতর প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেন
অভিযোগের অনুপস্থিতি ও তদন্ত
চিঠির শেষে পরিবারকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে লিখেছেন যে, তাঁর মৃত্যুর জন্য বিশেষ কেউ দায়ী নয়। চিরকুটে সরাসরি রাজনীতি বা অন্য কোনো ব্যক্তির নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি তিনি।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তিনি রাজনীতি থেকে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছিলেন। উদ্ধৃত সুইসাইড নোটটি হস্তাক্ষর বিশারদদের দিয়ে পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ ও নেপথ্যের ঘটনা খতিয়ে দেখতে পুলিশ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।


