বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি:
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের দমনপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই যন্তর-মন্তরের আন্দোলনস্থল থেকে বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী দল (RSP)-এর ছাত্র সংগঠন প্রোগ্রেসিভ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (PSU)-এর সাধারণ সম্পাদক বলরাম সজীব এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড শঙ্খ শুভ্র বিশ্বাস-কে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ।
শনিবার সকাল থেকেই জাতীয় রাজধানীতে সিজেপি (CJP) ও বিরোধী ‘ইন্ডি’ জোটের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় এবং ধরপাকড় শুরু হয়। একের পর এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী ও আইনজীবীদের আটকের পর এবার ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্বকেও গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল।
প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে গ্রেফতারি
শনিবার যন্তর-মন্তরে আয়োজিত ওই অননুমোদিত জমায়েত ও বিক্ষোভে যোগ দিতে এবং ছাত্র সমাজের দাবিগুলি জোরালোভাবে তুলে ধরতে উপস্থিত হয়েছিলেন পিএসইউ (PSU) নেতৃত্ব। পুলিশের তরফ থেকে শুরু থেকেই গোটা চত্বর ঘিরে রেখে কঠোর হাতে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, যন্তর-মন্তরের প্রতিবাদী অবস্থান থেকে অত্যন্ত চক্রান্তমূলকভাবে পিএসইউ-এর সাধারণ সম্পাদক বলরাম সজীব এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শঙ্খ শুভ্র বিশ্বাসকে জোরপূর্বক আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
সংবিধান প্রদত্ত গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে এভাবে ছাত্রনেতাদের উপর পুলিশি খড়্গ নামানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনগুলি।
আরও পড়ুনঃ ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধে মোদী সরকারের চরম কাপুরুষতা’! দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশি দমনপীড়নের অভিযোগ, তীব্র নিন্দা সিপিআই(এম)-র
উত্তাল রাজধানী ও ব্যাপক ধরপাকড়
উল্লেখ্য, এদিন শুধু ছাত্রনেতারাই নন, দিল্লিজুড়ে চলা এই পুলিশি অভিযানে একে একে আটক ও গ্রেফতার হয়েছেন দেশের একাধিক হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। খোদ পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন, প্রবীণ নেত্রী বৃন্দা কারাট, মানিক সরকার এবং সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবিসহ বহু শীর্ষ নেতাকে আটক করা হয়। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের আটক করা নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হস্তক্ষেপেও নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
রাজধানীর বুকে একদিকে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং কড়া ১৪৪/১৬৩ ধারা জারি থাকার পাশাপাশি ছাত্রনেতাদের এই গ্রেফতারি প্রমাণ করছে যে, সরকারের নীতি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা ক্ষোভকে দমন করতে প্রশাসন কতটা কঠোর পথ বেছে নিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বলরাম সজীব ও শঙ্খ শুভ্র বিশ্বাসকে কোথায় আটকে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে দানা বাঁধছে ধোঁয়াশা। ছাত্র নেতৃত্বের মুক্তি এবং পুলিশি হুঙ্কারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।


