বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাবিত বহুল আলোচিত ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল’ বা ‘গুণ্ডা দমন বিল’ বাস্তবায়নে বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। বিলটিতে কেন্দ্রীয় আইনের সাথে স্পষ্ট সাংবিধানিক সংঘাতের (Repugnancy) কথা জানিয়ে টেকসই আপত্তি প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। অনুমোদনের বদলে প্রয়োজনীয় সংশোধনের নির্দেশ দিয়ে বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রামের চাপে বাম; মার্ক্স-লেলিনের পাশেই শঙ্করাচার্য ও বিবেকানন্দ! পুজোর বুকস্টলে কৌশল বদল সিপিএমের
রাষ্ট্রপতির আপত্তি ও সাংবিধানিক জটিলতা
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত এই বিলটির ২(ডি)(iii)(বি) ধারায় ‘গুণ্ডা’ সংজ্ঞার আওতায় ‘এনডিপিস’ (NDPS) বা মাদক সংক্রান্ত অপরাধকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
-
কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সংঘাত: মাদক অপরাধীদের আগাম আটক বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের নিজস্ব ‘পিআইটি-এনডিপিস অ্যাক্ট, ১৯৮৮’ (PITNDPS Act) বলবৎ রয়েছে।
-
সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ: একই বিষয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের ভিন্ন আইন থাকলে ভারতীয় সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনি জটিলতার জন্ম হয়। সংঘাত এড়াতে বিলটি থেকে মাদক সংক্রান্ত বিষয়গুলি অবিলম্বে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানান, “দ্রুত এই আইন চালু করার পরিকল্পনা থাকলেও এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রশাসনিক ধাক্কা। তবে বিলে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে বিধানসভায় নতুন করে পাস করিয়ে পুনরায় রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানোর আইনি সুযোগ রয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ পাহাড়ের পর্যটনে বড় চমক! কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং রোপওয়ে তৈরিতে আগ্রহ আদানি গোষ্ঠীর
হাইকোর্টে মামলার পর্যবেক্ষণ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
চলতি বছরের জুন মাসে অসামাজিক কাজকর্ম রুখতে রাজ্য বিধানসভায় এই বিলটি পেশ করা হয়। বিলে ‘গুণ্ডা’ ও ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’-এর নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনারদের ১ বছরের জন্য কোনো অপরাধীকে নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বহিষ্কার (Externment) করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, গত ৬ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তাপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই বিলটিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দেয়।
-
আদালতের বক্তব্য: আদালত স্পষ্ট জানায়, রাষ্ট্রপতি এখনও বিলে সই করেননি, তাই এটি আইন হিসেবে কার্যকরই হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে মামলা করা ‘প্রিমেচিওর’ বা সময়ের আগেই করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি সই করে আইনটি কার্যকর করার পর আবেদনকারীরা পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন।
-
রাজনৈতিক বিতর্ক: বিলটির বর্তমান স্থিতি সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন যে এই বিলে রাজ্যপাল সই করেছেন এবং এটি আইনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু হাইকোর্টে রাজ্যের নিজেদের আইনজীবীরাই স্বীকার করে নেন যে বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলছে, যার ফলে আইনি বিভ্রান্তি তৈরি হয়।


