কলকাতার ঐতিহ্য ট্রাম। সেই ট্রামই তিলোত্তমার বুক থেকে কার্যত হারিয়ে গিয়েছে। ট্রাম বলে কোনও কিছু যে একদিন কলকাতার রাজপথে চলত, তা কি স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাবে? নতুন সরকারই কি ট্রামকে বাঁচিয়ে রাখতে কোনও পদক্ষেপ করবে? এই সব প্রশ্ন যখন উঠছে, তখন রাসবিহারীর বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত ট্রামকে বাঁচিয়ে রাখার পক্ষে সওয়াল করলেন। ট্রামকে তুলে দেওয়ার পিছনে ট্রামডিপোর বিশাল এলাকা দখলই লক্ষ্য বলে মনে করেন তিনি।
কলকাতা থেকে ট্রাম তুলে দেওয়ার কারণ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “ট্রামহীন কলকাতা নিয়ে তাদের চিন্তা করার কারণ কী? প্রথম কথা, একধরনের বিকৃত আধুনিকীকরণের মনোভাব। যাতে মনে হয়, মান্ধাতা আমলের এই ট্রাম একটা জায়গা নিয়ে নেয়। আর দ্বিতীয়টা, আপনি দেখতে পাচ্ছেন, আপনার সামনে এত বড় একটা জায়গা। অনেকে এই জায়গাটার লোভ সামলাতে পারে না। ট্রামডিপোগুলিকে কত বড় হাউজিং এস্টেট কিংবা শপিং মল করা যেতে পারে, সেটাই আসল কারণ। আর কোনও কারণ নেই। কারণ, আজকালকার দিনে যখন সারা বিশ্বে পরিবেশবান্ধব মনোভাব দেখা যাচ্ছে, তখন ট্রাম তুলে দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। এখন কলকাতার অনেক জায়গা থেকে ট্রামলাইন প্রায় তুলেই দিয়েছে। সেগুলোকে আবার বসানো জটিল ব্যাপার। তবে অনেক জায়গায় ট্রাম আছে এখনও। ট্রামলাইন রয়েছে।”
কলকাতার বুকে ট্রাম কেন থাকা দরকার, তার উল্লেখ করতে গিয়ে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “মেট্রোয় করে যাঁরা আসছেন, তাঁদের লিঙ্ক রাস্তা কোনটা? অর্থনীতির দিক থেকে লাভবান হওয়া যাবে কীসে? তা হল ট্রাম। দ্বিতীয়ত, ট্রাম হল কলকাতার ঐতিহ্য। আজকাল আমরা কলকাতার ঐতিহ্য নিয়ে অনেক কথা বলি। কেউ বলে, হেরিটেজ একটা বোঝা। কেউ বলে সম্পদ। যাই হোক না কেন, আমি মনে করি, কলকাতার সঙ্গে ট্রামের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। লোকে কলকাতা চিন্তা করলে যেমন হাওড়া ব্রিজ চিন্তা করে। তেমনই কলকাতা চিন্তা করলে ট্রামও চিন্তা করে। আমরা মনে করি, ট্রাম একটা সম্পদ। এটাকে রক্ষা করা উচিত।”
আরও পড়ুনঃ বরফের চেয়েও দ্রুত গলছে তৃণমূল’, BJP-র প্রধান প্রতিপক্ষ হতে তৈরি CPIM
ট্রামকে বাঁচিয়ে রাখতে লড়াই জারি রাখতে হবে জানিয়ে বিজেপি এই বিধায়ক বলেন, “এখন প্রধানমন্ত্রী লেভেলে ট্রামের গুরুত্ব স্বীকৃতি পেয়েছে। আমি মনে করি, এটা আরও বাড়াতে হবে। আর যারা ভাবছে ট্রাম উঠিয়ে শপিং মল করবে, তাদের কাছে এটা ধাক্কা। কিন্তু, ধাক্কা খেয়ে যে তারা পিছু হটবে এটা আমি মনে করি না। কোনও রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, এধরনের বিকৃত আধুনিকীকরণ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে লড়তে হবে।”



