যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভ কভার করার সময় তিন মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্থার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে অভিযুক্ত এসিপি বিবেক ভগতের পদোন্নতি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হতেই রাতারাতি নির্দেশ সংশোধন করল দিল্লি সরকার। গত ৫ অক্টোবর জারি করা নির্দেশে বিবেককে ‘অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ’ (Addl DCP)-এর চলতি দায়িত্ব দেওয়ার যে বিজ্ঞপ্তি বের হয়েছিল, সোমবার গভীর রাতে দিল্লি প্রশাসন তা বাতিল ও পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই অভিযুক্ত এসিপি বিবেক ভগৎ নিজে থেকে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান—যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নন। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই ৫ অক্টোবরের ওই নির্দেশে সংশোধন এনে বাকি ১১ জন দানিপস (DANIPS) আধিকারিকের চলতি দায়িত্ব বহাল রেখে বিবেকের নাম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
‘রুটিন প্রক্রিয়া’ বনাম ‘অপরাধে ছাড়’: নবান্ন ও দিল্লির প্রতিক্রিয়া
সোমবার প্রথম পদোন্নতির খবর সামনে আসতেই সাংবাদিক মহল, গণসংগঠন এবং বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে ব্যাপক ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়েছিল। পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে ধরনায় বসা মহিলা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া এবং এফআইআর দায়ের না করে উল্টে পদোন্নতির এই পদক্ষেপকে ‘শ্লীলতাহানির পুরস্কার’ বলে তোপ দাগেন রাহুল গান্ধী ও বৃন্দা কারাটরা।
দিল্লি পুলিশের তরফে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছিল:
-
পূর্বপ্রস্তুত ফাইল: এটি কোনো স্থায়ী প্রমোশন নয়, বরং একটি অস্থায়ী কারেন্ট ডিউটি চার্জ (CDC)। এই বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন ২৫ আগস্টেই প্রক্রিয়াভুক্ত হয়েছিল—যা ৩ অক্টোবরের ঘটনার অনেক আগের বিষয়।
-
আর্থিক সুবিধার অভাব: এতে কোনো আলাদা আর্থিক সুবিধা বা সংবিধিবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয় না।
তবে বিরোধীদের লাগাতার রাজপথ দখল ও ক্ষোভের মুখে শেষমেশ সেই নির্দেশ স্থগিত করতে বাধ্য হলো প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ প্রহসনের উপনির্বাচন দেখছে বাংলা; ভোট লুট শুরু, বিজেপির মুকুটে নতুন পালক
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও আইনি অবস্থান
অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ আপাতত আটকানো গেলেও মূল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও এফআইআর (FIR) রুজু নিয়ে:
| ঘটনার ক্ষেত্র | বর্তমান আইনি পরিস্থিতি ও পদক্ষেপ |
| ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্ত | নিরপেক্ষতার স্বার্থে অভিযোগকারীদের বয়ান ও বয়ানের অডিও-ভিডিও নথি ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। |
| সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ | ৩ অক্টোবরের যন্তর মন্তরের সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও জমা দিতে বলা হয়েছে। |
| এফআইআর-এর দাবি | এখনও অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর দায়ের না হওয়ায় দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে প্রমান লোপাট ও আড়াল করার নালিশ অব্যাহত। |
অমিত শাহের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ নিজের ঘরের অফিসারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে এফআইআর দায়ের করে কি না, কিংবা ক্রাইম ব্রাঞ্চের রিপোর্টে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর পুরো দেশের।


