বাংলায় ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা SIR হলে কিছু চমকে দেওয়ার মতো তথ্য জানা যাবে বলে আগেই মনে করা হচ্ছিল। কম বেশি সেটা হচ্ছেও। তবে নির্বাচন কমিশনকে (EC) সবচেয়ে চমকে দিয়েছে কলকাতার হিসেবনিকেশ। এমনিতে মোট অসংগৃহীত এনুমারেশন ফর্ম বা ফর্মের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা। সেখানে প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ ভোটারের হদিশ মেলেনি। এর মধ্যে মৃত ভোটার, ডুপ্লিকেট ভোটার ইত্যাদি রয়েছে। কিন্তু শতাংশের হিসাবে উত্তর চব্বিশ পরগনাকেও টেক্কা দিয়ে দিলো কলকাতা উত্তর।
আরও পড়ুনঃ স্বস্তির পরদিনই ধাক্কা রাজ্যের, উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগে সুপার নিউমেরারি পদ তৈরির সিদ্ধান্ত খারিজ
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরে যে তথ্য এসে পৌঁছেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, কলকাতা উত্তরে বর্তমান ভোটার তালিকার ৯ শতাংশই মৃত। এখানে ৭টি বিধানসভা রয়েছে। মোট ভোটার ১৫, ০৬, ৩৩৯ জন। এর মধ্যে ২২.৯৭ শতাংশ ভোটার বা তাদের এনুমারেশন ফর্ম বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আনকালেকটেবল ছিল। সংখ্যার হিসাবে তা প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ (3,46,059)। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা হল ১ লক্ষ ৭ হাজার ৫৯১। অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় 7.14% শতাংশ।
প্রশ্ন হল, ১৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে সাড়ে ৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ চলে গেলে সমীকরণ কি বদলে যেতে পারে? পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে এই পরিসংখ্যান চমকে দেওয়ার মতোই। কারণ, গড়ে প্রতিটি বিধানসভায় প্রায় ৫০ হাজারে এনুমারেশন ফর্ম আনকালেকটেবল। অর্থাৎ কলকাতা উত্তরের প্রতিটি বিধানসভায় গড়ে ৫০ হাজার করে ভোটার কমে যেতে পারে।
কলকাতা দক্ষিণের ছবিটাও কমবেশি একইরকম। বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা ৯ লক্ষের কিছু বেশি। তার মধ্যে ২০ শতাংশ অর্থাৎ ১,৮৮,৭৯০ টি ফর্ম এখনও পর্যন্ত আনকালেকটেবল। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ৫৫৯৭১ তথা ৬.১৭ শতাংশ। হিসাব মতো কলকাতা দক্ষিণে বিধানসভা পিছু প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে। এই ভোটাররা হয় মৃত বা পাকাপাকি ভাবে অন্যত্র চলে গেছেন, বা তাঁদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এসআইআর প্রক্রিয়া এখনও চলছে। ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফর্ম জমা নেওয়া চলবে। এখন দেখার সংখ্যাটা প্রকৃত পক্ষে কোথায় পৌঁছয়।





