সরকার থেকে চলে যেতেই ফাঁস হচ্ছে পূর্বতন শাসকদলের একের পর এক ‘দুর্নীতির পর্দা’! রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ও পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া সরকারি ত্রাণ সামগ্রী সেই প্রশ্নই বড় করে তুলছে। যাদবপুর থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ কম্বল, শাড়ি, ধুতি কিংবা তারপুলিন— কী নেই তৃণমূল নেতাদের ব্যক্তিগত গুদামে!
জনরোষের মুখে তৃণমূলের ‘ত্রাণের রাজনীতি’
নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও নেতাদের চড়-থাপ্পড় মারা হচ্ছে, কোথাও আবার ‘ডিম-ছুঁড়ে’ হেনস্থা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই ত্রাণ সামগ্রীগুলো নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রলোভন দেখাতে বা ভোট কেনার জন্য মজুত করা হয়েছিল। তৃণমূলের এই ‘ত্রাণের রাজনীতি’ এখন রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
আরও পড়ুনঃ ‘টর্চার রুম ছিল, সেখানে উলঙ্গ করে….’; গ্রেফতারির লাইনে তৃণমূল নেতারা
কেন নেতাদের বাড়িতে সরকারি সম্পদ?
সাধারণত সরকারি ত্রাণ দুর্যোগের সময় মানুষের হাতে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু সরকারি গুদামে না থেকে সেই সামগ্রী কেন তৃণমূল নেতাদের শোবার ঘরে বা ব্যক্তিগত পার্টি অফিসে পৌঁছালো?
আরও পড়ুনঃ বিশাল লাভ শিলিগুড়ির! ৯১৬ কোটির কাজে অনুমোদন রেলের
স্বচ্ছতার অভাব: সরকারি সম্পত্তি কেন দলীয় বা ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখা হয়েছিল, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না অধিকাংশ নেতা।
ভোটের টোপ: নির্বাচনী মরসুমে এই সামগ্রীগুলো কি ভোটারদের মন জয়ের ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার অপেক্ষায় ছিল? এমনই প্রশ্ন তুলছে ওয়াকিবহাল মহল।
দায়িত্বহীনতা: নির্বাচনের পর পরাজয় নিশ্চিত হতেই দায়সারাভাবে তা ফেরত দেওয়ার নাটক করছেন নেতারা, যা কার্যত জনগণের করের টাকার অপব্যবহারের সামিল।
শাসকদলের এই ‘ত্রাণের পাহাড়’ উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে, সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা। নির্বাচনের হার যেন সেই লুকানো দুর্নীতির আগল খুলে দিচ্ছে একের পর এক।


