NEET-কাণ্ডের প্রতিবাদে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মিছিল ঘিরে উত্তাল হল ধর্মতলা! পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হল জুতো, ইট থেকে জলের বোতল। পাল্টা লাঠি চলল, ছোড়া হল কাঁদানে গ্যাসও। আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক সাংবাদিকরাও।
শুক্রবারের এই ঘটনা নিয়ে এদিন বিধানসভায় কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া ছিল, গণতান্ত্রিক দেশ, যে কেউ তাঁর মতপ্রকাশ করতে পারে। সরকারের নির্দেশ ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে কোনওরকম বলপ্রয়োগ করা যাবে না। কিছু বাম ও SUCI-এর ছাত্র সংগঠন, যাদের কলেজে অস্তিত্ব নেই, তারাও আন্দোলনে ঢুকে পড়ে। মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল, পুলিশের হিসাব ছিল ৯ হাজারের মতো লোক হবে। ডোরিনা ক্রসিংয়ে আসার পর জুতো ও বোতল দিয়ে আক্রমণ শুরু করে’।
আরও পড়ুনঃ ‘শুক্রবারিরা চিহ্নিত’, সাংবাদিক নিগ্রহে কড়া শুভেন্দু
তিনি বলেন, ‘তবে পুলিশ সংযত ছিল, পুলিশের যাঁরা ডিউটিতে ছিলেন, তাঁদের ধন্যবাদ। মামলাগুলিতে গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। হেয়ার স্ট্রিট থানা ও এন্টালিতে ৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের কেউই ছাত্র নয়। রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, মোমিনপুরের তনভির ইকবাল চিহ্নিত করা হয়েছে । গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব যাতে গুন্ডাদের এক পুরুষ নয়, তিন পুরুষ মনে রাখবে ঘটনা ঘটনোর আগে। এই জন্যই গুন্ডাদমন আইন পাশ হয়েছে। এর প্রয়োজন কতটা এবার মানুষ দেখবে’।
আরও পড়ুনঃ বামেদের প্রতিবাদ মিছিলে আক্রান্ত সাংবাদিকরা; ক্ষোভে ফুঁসছে শহর তিলোত্তমা
ধর্মতলার ঘটনায় একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তার মধ্যে রয়েছে বেআইনি জমায়েত, বেআইনি জমায়েত থেকে অপরাধ সংগঠিত করা, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং সঙ্গে মারধর করা, রাস্তা অবরোধ করা, শান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে উস্কানি ও বিদ্বেষ ছড়ানো, সরকারি আদেশ অমান্য করা, একই উদ্দেশ্য নিয়ে একাধিক ব্যক্তি অপরাধ সংগঠিত করা।
লালবাজার সূত্রে খবর, যাঁরা এই ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন, ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে তাঁদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। শুক্রবার ধর্মতলায় সাংবাদিকদের নিগ্রহের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লেখেন, “সাংবাদিকদের ওপর এই ঘৃণ্য হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। প্রতিবাদের নামে গুণ্ডারাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
এদিকে, সাংবাদিক হেনস্থার প্রতিবাদে মিছিল করবেন বিজেপি বিধায়করা। দুপুর ১টার সময় কালো ব্যাচ পরে বিধানসভা থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত মিছিল করবেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, আন্দোলন যাদেরই হোক, সাংবাদিকদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। আসল দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেবে রাজ্য সরকার।


