আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের অফিসে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় বিস্ফোরক বিজেপি। আলিপুরের ১০ তলা ভবনের ৪ তলা থেকে আগুন ধরে। জানা গিয়েছে, আগুন লাগে ১০টার আগে। প্রাথমিক ভাবে দাবি করা হয়, এসির শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। এই আবহে সেই অফিসের কর্মীরাই প্রশ্ন করছেন, অফিস খোলে ১০টায়, তার আগে এসি চলল কীভাবে।
আরও পড়ুনঃ ২৮ বছর পর ঘরে ফিরবেন মমতা?
এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে বলেন, আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে, এটার বিষয়ে তদন্ত করে দেখা উচিত। এদিকে বিজেপি নেতা রাকেশ সিং দাবি করেন, ষড়যন্ত্র করেই আগুন ধরানো হয়েছে। অভিষেক ও জাহাঙ্গির জড়িত এতে। তারাই লোক দিয়ে এই আগুন ধরিয়েছে নিজেদের পাপ মুছে ফেলতে। এদিকে আজ ৪ তলায় আগুন লাগার পরে তা ৭ তলা পর্যন্ত লেগে যায়। সেই ৪ তলাতেই জাহাঙ্গিরের অফিস। এদিকে দুপুর ১২টার পরে হঠাৎ ভবনের ১০ তলায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। সেই তলায় গোডাউন এবং মনরেগার অফিস আছ। এই আবহে সরকারি নথি পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ স্থানীয়রা প্রথমে ভবনের চারতলা থেকে ধোঁয়া এবং আগুনের শিখা দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে দমকলে খবর দেওয়া হয়। প্রথমে দুটি ইঞ্জিন পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করলেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্রমে তা ভবনের উপরের তলাগুলিতেও ছড়িয়ে যায় এবং সাততলা পর্যন্ত আগুন পৌঁছে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। ভবনের কিছু অংশ থেকে চাঙড় ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটে।
আরও পড়ুনঃ পিঠে ছুরি দুঃসময়ে! অভিষেকের সঙ্গেই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করলেন তাঁরই ‘সেনাপতি’ সায়নী ঘোষ
দমকল সূত্রে খবর, আগুন নেভানোর কাজে অন্তত ১০টি ইঞ্জিন নামানো হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভবনের কাচ ভেঙে ধোঁয়া বের করার কাজও করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ভবনের সপ্তম তলায় একজন ব্যক্তি আটকে পড়েছিলেন। তাঁকে উদ্ধার করার জন্য দড়ির সাহায্যে নামানোর চেষ্টা চালানো হয়। ভবনের অন্য কোথাও আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকারী কর্মীরা।
প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট অথবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে (এসি) ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে রাজি নন দমকল ও প্রশাসনের কর্তারা। এদিকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে জাহাঙ্গির খানের দপ্তর থাকা ভবনে এই অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে নানা জল্পনাও শুরু হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও ষড়যন্ত্র বা নাশকতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। তদন্তের পরই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতারা।


