আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সাম্প্রতিক সময়ে চীন, রাশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বৈশ্বিক সামরিক মহড়া ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনমনে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ ঘনিয়ে আসার ব্যাপক জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশের সামরিক সতর্কতা ও কূটনৈতিক বাদানুবাদকে হাতিয়ার করে একটি মহালয় বা প্রলয়ঙ্করী যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন—পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার তাইওয়ান প্রণালীর চাপ, রাশিয়া-ন্যাটো মুখোমুখি অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে ভুয়ো তথ্য ও অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশনের ফলে এই আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
আরও পড়ুনঃ রামের চাপে বাম; মার্ক্স-লেলিনের পাশেই শঙ্করাচার্য ও বিবেকানন্দ! পুজোর বুকস্টলে কৌশল বদল সিপিএমের
ভীতি বনাম বাস্তবচিত্র: প্রধান অঞ্চলগুলির প্রকৃত স্থিতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো নানা বিভ্রান্তিকর দাবির বিপরীতে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রকৃত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| অঞ্চল / অক্ষ | প্রচলিত রটনা ও আতঙ্ক | বাস্তবিক ও কূটনৈতিক স্থিতি |
| চীন ও তাইওয়ান | চীন কূটনৈতিকদের ডেকে পাঠিয়ে যুদ্ধের ৩ নম্বর সতর্কবার্তা জারি করেছে। | নিয়মিত সামরিক মহড়া ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির অংশ। অর্থনৈতিক স্বার্থে চীন বা যুক্তরাষ্ট্র কেউই সরাসরি সামরিক সংঘাত চায় না। |
| ইউরোপ ও রাশিয়া | ইউরোপজুড়ে জরুরি অবস্থা ও রাশিয়া-ন্যাটো সরাসরি যুদ্ধ আসন্ন। | ইউক্রেন সংঘাত সীমাবদ্ধ রাখতেই ন্যাটো ও ক্রেমলিন উভয় পক্ষই সরাসরি পরমাণু বা সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়ানোর বিষয়ে সতর্ক। |
| মধ্যপ্রাচ্য | ১০ লাখ সেনা মোতায়েন ও পারমাণবিক হামলার ভয়াবহ হুমকি। | আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রক্সি লড়াই ও কূটনৈতিক চাপ (Deterrence) বজায় রাখার কৌশলমাত্র। |
| যুক্তরাজ্য ও ন্যাটো | নাগরিকদের খাবার ও জল মজুতের জরুরি সরকারি নির্দেশ। | সাইবার হামলা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার নাগরিক সুরক্ষা (Civil Defense) নির্দেশিকাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। |
আরও পড়ুনঃ নতুন সরকারের আমলে প্রথম মৃত্যুদণ্ড; ৯ মাসেই স্ত্রীকে খুনের বিচার
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষকদের মতে, আধুনিক বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাছাড়া, বিশ্বের প্রধান পরাশক্তিগুলির কাছে যে পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, তার ব্যবহারে বিজয়ী বা বিজিত বলে কিছু থাকবে না; বরং ‘মিউচুয়াল অ্যাসিওরড ডেস্ট্রাকশন’ (MAD)-এর অধীনে মানবজাতি ধ্বংসের মুখে পড়বে।
তাই সীমান্তগুলিতে উত্তেজনার পারদ চড়লেও, প্রতিটি দেশই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, প্রক্সি যুদ্ধ ও টেবিল বৈঠকের মাধ্যমেই সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজছে। ভুয়ো তথ্য বা অতিরঞ্জিত গুজবে কান না দিয়ে দায়িত্বশীল আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার তথ্যের ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


