শনিবার সকালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর শহরের সৈদাবাদ বাঙালপাড়া এলাকায় প্রশাসনের এক নজিরবিহীন ‘বুলডোজার অভিযান’-কে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। খোদ বহরমপুর টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি পাপাই ঘোষের একটি বিলাসবহুল বাগানবাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। অভিযোগ, সরকারি পার্কের জমি বেআইনিভাবে দখল করে ক্ষমতার দাপটে এই বাগানবাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ আর রেহাই নেই শক্তিশালী বজ্রঝড়ের থেকে! বাংলার দিকে ধেয়ে আসবে শক্তিশালী বজ্রগর্ভ কিউমুলোনিম্বাস মেঘ
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার সাতসকালেই বিশাল পুলিশবাহিনী ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে বাঙালপাড়ার ওই বিতর্কিত জমিতে নিয়ে আসা হয় বুলডোজার। মুহূর্তের মধ্যে সম্পূর্ণ কাঠামোটি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
পার্কের জমি দখল করে ‘প্রভাব খাটানোর’ অভিযোগ
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই জমিটি নিয়ে বিতর্ক চলছিল। সাধারণ মানুষের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি পার্কের জমি নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখল করেছিলেন তৃণমূল যুব নেতা পাপাই ঘোষ। সেখানে পাঁচিল তুলে তৈরি করা হয়েছিল ব্যক্তিগত প্রমোদ উদ্যান বা বাগানবাড়ি। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপকে সাদরে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, এই বাগানবাড়িকে কেন্দ্র করে প্রায়শই বহিরাগত ও মদ্যপদের আনাগোনা লেগে থাকত।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সন্ধ্যার পর ওই এলাকা দিয়ে মা-বোনদের যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। তার ওপর গভীর রাত পর্যন্ত চড়া আওয়াজে ডিজে (DJ) বক্স বাজানো হতো। প্রতিবাদ করলে রাজনৈতিক ভয় দেখানো হতো। প্রশাসন আজ খুব ভালো কাজ করেছে।”
‘১০ লাখ দিয়ে কেনা জমি, পঞ্চায়েত প্রধানের জন্মদিনের সাজানো বাড়ি ভাঙা হলো!’ সরব মা
এদিকে প্রশাসনের এই অ্যাকশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল যুব নেতার মা। তাঁর দাবি, কোনো জমি দখল করা হয়নি, বরং প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে জমিটি কেনা হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “একসময় যাঁরা আমাদের পাশে পাশে ঘুরতেন, আজ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যেতেই তাঁরাই বিরোধিতা করছেন এবং আমাদের বাড়ি ভাঙছেন।”
তিনি আরও জানান, ওই বাগানবাড়িতেই মনীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা তাঁর পুত্রবধূ সুষমা ঘোষের জন্মদিন উদযাপনের প্রস্তুতি চলছিল। চারদিক আলো দিয়ে সাজানো হয়েছিল, সুষমার ছবিও লাগানো ছিল। সেই অবস্থাতেই সব ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হলো।
আরও পড়ুনঃ জয়-জয়কার বাংলার মিষ্টির; GI ট্যাগ পেল জনাইয়ের মনোহরা
মুখে কুলুপ নেতার, থমথমে এলাকা
সরকারি জমি উদ্ধারে প্রশাসনের এই ‘দাদাগিরি বন্ধের’ নীতি বহরমপুরে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোড়ন তৈরি করেছে। তবে নিজের সাধের বাগানবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া নিয়ে বহরমপুর টাউন তৃণমূল যুব সভাপতি পাপাই ঘোষের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে, মোতায়েন রয়েছে পুলিশ।


