ফ্রান্সে আয়োজিত জি৭ শীর্ষসম্মেলনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সংঘাত বেড়েই চলেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বায়না করছিলেন মেলোনি। তাই না-চাইতেও তিনি রাজি হয়েছেন। ইটালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা কমে গিয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। অভিযোগ, তা বাড়ানোর জন্যই ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তোলার চেষ্টা। মেলোনি এর জবাব আগেও দিয়েছেন। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কারও কাছে কিছুর জন্য ভিক্ষা করেন না। এ বার ফের মুখ খুললেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী। ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্যকে তিনি ‘অযাচিত আক্রমণ’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
আরও পড়ুনঃ কলকাতা থেকে লাদাখ, যোগাসনে মগ্ন আধ্যাত্মিক ভারত
মেলোনি সমাজমাধ্যমে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘‘অনবরত এই অযাচিত আক্রমণের কোনও অর্থ নেই। আপনার বন্ধু হয়ে জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে আমার কখনও কোনও লাভ হয়নি। আপনার সঙ্গে সম্পর্কের উপর আমার জনপ্রিয়তা নির্ভরও করে না। আমার জনপ্রিয়তা নির্ভর করে, ইটালির জাতীয় স্বার্থকে আমি কতটা সুরক্ষিত করতে পারছি, তার উপর। সেটাই আমি সবসময় করে এসেছি।’’
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত চলাকালীন হরমুজ় প্রণালী খোলার জন্য ইউরোপের একাধিক দেশের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন ট্রাম্প। ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নেটো-র সদস্য হওয়া সত্ত্বেও অনেক দেশ তাতে রাজি হয়নি। ইটালি তার মধ্যে অন্যতম। বরং ট্রাম্পের ভূমিকারও সমালোচনাও করেছিলেন মেলোনি। তা নিয়ে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মেলোনি তার জবাবে বলেন, ‘‘ইটালিতে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটির বিষয়ে আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা-ও ইটালির জাতীয় স্বার্থের কথা ভেবেই। ওই ঘাঁটির ব্যবহার চুক্তিভিত্তিক, আমরা সেই চুক্তিকে সবসময় সম্মান জানিয়েছি। আমি প্রধানমন্ত্রী থাকতে সেটা কখনও ভাঙতে দেব না। ইটালি সার্বভৌম দেশ ছিল, থাকবেও। তা ছাড়া, আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে আপনার না-ভাবলেও চলবে। আপনি বরং নিজের জনপ্রিয়তার দিকে নজর দিন।’’
আরও পড়ুনঃ মোদীর মুখে কলকাতার প্রশংসা; আজ গোটা বিশ্বের নজর এখন বাংলায়
বিতর্কের সূত্রপাত জি৭ শীর্ষসম্মেলন শেষ হওয়ার পর। ট্রাম্প ইটালির এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে দাবি করেন, মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য জোরাজুরি করেছিলেন। তাতে ট্রাম্পের ‘খারাপ’ লেগেছিল। তাই তিনি ছবি তুলতে রাজি হয়েছেন। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘আমি ওঁর (মেলোনি) সঙ্গে কথা বলায় উনি খুব খুশি হয়েছেন। আমার কথা বলার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু উনি আমার সঙ্গে একটা ছবি তোলার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। আমি হয়তো ছবি তুলতাম না, কিন্তু আমার খারাপ লেগেছিল। তাই ছবি তুলেছি।’’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরেই মেলোনি মুখ খোলেন। দাবি, সম্পূর্ণ বানিয়ে বলছেন ট্রাম্প। মেলোনি লেখেন, ‘‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া, বানানো। আমি স্তম্ভিত! জানি না কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর নিজের বন্ধুদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন! এটা প্রথম নয়।’’ ইটালির প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘পশ্চিম বিশ্বের শত্রুদের সঙ্গে বা আমেরিকার শত্রুদের সঙ্গে ট্রাম্প এই দৃঢ়তা দেখান না, এটা লজ্জার। সেখানে তিনি অনেক বেশি নমনীয় আচরণ করেন। ওঁকে মনে রাখতে হবে— আমি বা ইটালি কখনও ভিক্ষা করি না।’’


