কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুরিঃ
ছুটিতে নিজের জেলা জলপাইগুড়ির বাড়িতে এসে আত্মহত্যা করলেন আলিপুরদুয়ারে কর্মরত এক পুলিশ ইন্সপেক্টর। বুধবার সকালে জলপাইগুড়ি শহরের পশ্চিম কংগ্রেসপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো তাঁর ঝুলন্ত দেহ। মৃত পুলিশ অফিসারের নাম সৌরভ চক্রবর্তী (৪৮)। খবরটি জানাজানি হতেই পরিবার ও পুলিশ মহলে চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌরভবাবু কর্মসূত্রে আলিপুরদুয়ারে থাকলেও তাঁর স্ত্রী ও সন্তান থাকতেন শিলিগুড়িতে। জলপাইগুড়ি শহরের পশ্চিম কংগ্রেসপাড়ায় তাঁর নিজের বাড়ি। ছুটিতে তিনি বাড়িতেই এসেছিলেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও স্বাভাবিকভাবেই ঘুম থেকে উঠে চা খেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরেই আচমকা ঘরের ভেতরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে সব শেষ।
আরও পড়ুনঃ পাপ বাপকেও ছাড়ে না; ভোটে হেরে কাঁদলেন হুমায়ুন, ছেলেকে দাগলেন ‘গদ্দার’! পিতা-পুত্রের কাদা ছোড়াছুড়ি
দুর্ঘটনা ও মানসিক অবসাদের ছায়া
বাইরে থেকে সৌরভবাবুর চালচলনে বিশেষ কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি। তবে পরিবারের নিকটাত্মীয় ও বন্ধুদের দাবি, মাস কয়েক আগে একটি গুরুতর পথ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই ভেতর ভেতর তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এই পুলিশ কর্তা।
| ঘটনাপ্রবাহ | বিবরণ |
| মৃত অফিসার | সৌরভ চক্রবর্তী (৪৮), পুলিশ ইন্সপেক্টর (আলিপুরদুয়ার)। |
| মূল বাসস্থান | পশ্চিম কংগ্রেসপাড়া, জলপাইগুড়ি। |
| প্রাথমিক কারণ | মাসকয়েক আগের সড়ক দুর্ঘটনার পর থেকে ঘনীভূত মানসিক অবসাদ। |
| তদন্তের স্থিতি | জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু। |
আরও পড়ুনঃ আজ ঝাঁজ বাড়বে বিক্ষোভের; ইন্ডি জোটের পিণ্ডি চটকাতে থাকছেন মমতাও, জাঁতাকলে কেন্দ্র ও কমিশন
শোকের ছায়া ও পুলিশি তদন্ত
ঘটনার আকস্মিকতায় বাকরুদ্ধ সৌরভবাবুর আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরা। তাঁর আত্মীয় পল্টন কর্মকার শোকস্তব্ধ কণ্ঠে বলেন, “আত্মহত্যা করেছে, ছেলেটি আমার ভাগ্নে হতো। কেন যে হঠাৎ এমন চরম সিদ্ধান্ত নিল, আমরা কিছুই বুঝতে পারলাম না।”
ঘটনার পর জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ দেহটি শোকস্তব্ধ পরিবারের হাতে তুলে দেয়। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ অফিসার কেন এমন পথ বেছে নিলেন, তাঁর নেপথ্যে কেবল দুর্ঘটনাজনিত অবসাদই নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


