২৪ জুলাই ১৯৭৯, মহানায়ক উত্তমকুমার চট্টোপাধ্যের প্রয়াণের ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তির স্মৃতি আজও হৃদয়ে অম্লান। ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবির শেষ শটে কাজ করতে করতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন—সেই দৃশ্যের পেছনের গল্প আজও অনেকে মনে রাখেন।
শুটিংয়ের সময় বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছিলেন উত্তমকুমার। পরিচালক সলিল দত্ত বারবার তাঁকে বিশ্রাম নিতে বললেও উত্তমকুমার দৃঢ়স্বরে বলেছিলেন, “আজকে শট নিয়ে নাও সলিল, কাল আমি নাও থাকতে পারি।” পরদিন সত্যিই তিনি চলে যান না ফেরার দেশে।
আরও পড়ুনঃ উত্তম কুমারের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী মৃত্যুবার্ষিকীতে বড় উদ্যোগ শুভেন্দু সরকারের
সেই সময় তাঁর ঠিকানা ছিল ময়রা স্ট্রিট, অভিনেত্রী সুপ্রিয়াদেবীর সঙ্গে আলাদা সংসারে ছিলেন তিনি। অসুস্থ অবস্থায় গৃহচিকিৎসক সুনীল সেন তাঁকে বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের ডাক্তার বুঝতে পারেন, জ্যাজান আর বাঁচবেন না। খবর পেয়ে পরিবারের সবাই হাসপাতালে ছুটে যান। তাঁর ছোটভাই তরুণকুমার শো করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই তাঁকে হারান।
মহানায়কের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের আবেগের বর্ণনা দিতে গিয়ে ভাইঝি ঝিমলির (মনামী বন্দ্যোপাধ্যায়) কণ্ঠ কাঁপে। তিনি স্মৃতিচারণ করেন, “মায়ের আর্তনাদ, ঠাকুমার বিচলিতা, এবং পরিবারের সবাই যেন শোকের সাগরে ডুবে গেছে।”
মহানায়কের মা চপলাদেবী বারবার বলতেন, “আমার নাড়িটা দলা পাকিয়ে মুখে দিয়ে বেরিয়ে আসছে।” তাঁর পিতা-মাতার বন্ধু, যিনি সন্ন্যাসী হয়ে গিয়েছিলেন, জন্মের সময় বলেছিলেন, “ছেলেটার কপালটা দেখেছিস? ওর জগৎ জোড়া নাম হবে, তুই ওকে ধরে রাখতে পারবি না।”
আরও পড়ুনঃ ঘরে ফেরার আনন্দ; মাসির বাড়ি থেকে নিজ ধামে ফিরছেন প্রভু জগন্নাথ
উত্তমকুমারের মৃত্যুদিন আজ, ২৪ জুলাই। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাঁর অবদান ও স্মৃতি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শুধু চলচ্চিত্র নয়, বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ মহানায়ক উত্তমকুমার। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানায় শিল্পী সমাজ, অনুরাগী, এবং রাজ্য সরকার।


