কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ৬৬টি সীমান্তবর্তী গ্রামকে ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য এসব গ্রামের সামগ্রিক পরিকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ইতোমধ্যে এসব গ্রামের উন্নয়নের জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা করে বরাদ্দ করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে চারটি ক্ষেত্রে—রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, টেলিকম ও ইন্টারনেট পরিষেবা। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, পশুপালনসহ অন্যান্য সরকারি পরিষেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও এই উদ্যোগের অংশ।
সম্প্রতি বালুরঘাট ব্লক অফিস ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ দিনাজপুরের বিধায়ক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই প্রকল্পের দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। জেলার আটটি ব্লকের মধ্যে বংশীহারি ও হরিরামপুর বাদ দিয়ে ছয়টি ব্লকের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে, যার মধ্যে বালুরঘাট ব্লকে সবচেয়ে বেশি গ্রাম রয়েছে।
প্রসঙ্গত, অতীতে সীমান্ত উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই বরাদ্দ বন্ধ ছিল। সরকারের পরিবর্তনের পর এখন সীমান্তের গ্রামগুলোর উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন করে শুরু হচ্ছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হবে, আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়াতে পর্যটন শিল্পের বিকাশে জোর দেওয়া হবে, এবং হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও স্কুল নির্মাণের কাজও হবে।
সীমান্তে অনুপ্রবেশের সমস্যা থাকায় কেন্দ্রীয় সরকার এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশের সুরক্ষার স্বার্থেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বহুবার দেখা গেছে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকায় তাদের উন্নয়ন পিছিয়ে যায়। তাই এবার দক্ষিণ দিনাজপুরসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দিনাজপুরে ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ’ প্রকল্পের বিস্তারিত:
-
পরিকল্পনার লক্ষ্য:
- ৬৬টি সীমান্তবর্তী গ্রামের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন।
- প্রাথমিকভাবে প্রতি গ্রামের জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ।
-
প্রধান ক্ষেত্রসমূহ:
- রাস্তাঘাট উন্নয়ন।
- বিদ্যুৎ সরবরাহ।
- টেলিকম ও ইন্টারনেট পরিষেবা বৃদ্ধি।
- স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও পশুপালনে উন্নয়ন।
- স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
-
বৈঠক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ:
- বালুরঘাট ব্লক অফিস ও জেলা প্রশাসন কর্তৃক দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা।
- আটটি ব্লকের মধ্যে ছয়টি ব্লকের সীমান্তবর্তী গ্রাম প্রকল্পের আওতায়।
- বালুরঘাট ব্লকে সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রামের অন্তর্ভুক্তি।
-
অতীত ও বর্তমান অবস্থা:
- পূর্বে সীমান্ত উন্নয়ন তহবিল থাকলেও বরাদ্দ বন্ধ ছিল।
- সরকারের পরিবর্তনের পর প্রকল্প নতুন করে শুরু।
-
অতিরিক্ত উদ্যোগ:
- পর্যটন শিল্প বিকাশের মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি।
- হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও স্কুল নির্মাণ।
- পাকা রাস্তা ও পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।
-
সীমান্ত নিরাপত্তা:
- অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের কড়া অবস্থান।
- দেশের সুরক্ষার স্বার্থে উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় নজর।
উপসংহার:
দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর উন্নয়নে ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ’ প্রকল্প নতুন দিকনির্দেশনা ও সুযোগ এনে দেবে, যা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত এসব অঞ্চলের মানুষকে স্বাবলম্বী ও উন্নত জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।


