নতুন বছর ২০২৬-এর প্রথম দিনে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া শীতের ছোঁয়ায় মোড়া থাকবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় হালকা তুষারপাত এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হলেও স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে হবে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়া থাকলেও সকালের দিকে ঘন কুয়াশা এবং হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হবে।
পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা সবচেয়ে নীচে নামতে পারে, যা নতুন বছরের শুরুতে শীতপ্রেমীদের খুশি করবে।আবহাওয়া দফতরের রিজিওনাল মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার, কলকাতা জানিয়েছে, ১ জানুয়ারি দার্জিলিঙে হালকা তুষারপাত এবং বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলায় মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে, কিন্তু সকালে অগভীর থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়বে। কোথাও কোথাও ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ৫০ থেকে ২০০ মিটারে নেমে আসতে পারে, যা যান চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করবে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় তাপমাত্রা আরও নীচে নামবে। দার্জিলিঙে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে, যা তুষারপাতের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলছে।
পর্যটকরা যারা নতুন বছরে দার্জিলিঙ বা সিকিমের দিকে যাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি সাদা চাদরে মোড়া পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ। তবে রাস্তায় বরফ জমে যাওয়ায় যান চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে।দক্ষিণবঙ্গের ছবি কিছুটা ভিন্ন। এখানে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে, কোনও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। কলকাতা সহ দক্ষিণের জেলাগুলোতে সকালে অগভীর থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়বে।
আরও পড়ুনঃ “হল্লা বোল”; ‘সফদর মারা গেছে, কিন্তু ধমনীতে সে বেঁচে’-‘ট্রিবিউট টু হাসমি’
পশ্চিমের জেলা যেমন পুরুলিয়া, আসানসোল, বাঁকুড়ায় তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকবে। এই এলাকাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নামতে পারে। কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩-১৪ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ২১-২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকবে। দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু শীতের আমেজ অক্ষুণ্ণ থাকবে। নতুন বছরের পিকনিক বা বেড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে সকালের কুয়াশার কথা মাথায় রাখতে হবে।
ট্রেন, বিমান এবং সড়ক যোগাযোগে বিলম্ব হতে পারে।আবহাওয়া দফতরের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে এই তুষারপাত এবং বৃষ্টি হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গে উত্তর-পশ্চিমের শুষ্ক হাওয়া প্রবাহিত হচ্ছে, যা ঠান্ডা বাড়াচ্ছে।
আগামী কয়েকদিন কুয়াশা এবং শীত অব্যাহত থাকবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বয়স্ক এবং শিশুদের সকালে বাইরে বেরোনোর সময় উষ্ণ পোশাক পরতে। শ্বাসকষ্টের রোগীদের সতর্ক থাকতে হবে কুয়াশার কারণে। গাড়ি চালানোর সময় হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরে চালাতে বলা হয়েছে।









