Friday, 17 April, 2026
17 April
HomeকলকাতাSamir Putatundu: প্রয়াত প্রবীণ বামপন্থী নেতা সমীর পুততুণ্ড, শোকপ্রকাশ মমতার

Samir Putatundu: প্রয়াত প্রবীণ বামপন্থী নেতা সমীর পুততুণ্ড, শোকপ্রকাশ মমতার

রবিবার রাতে ১১.১৫ মিনিট নাগাদ ই এম বাইপাস লাগোয়া মুকুন্দপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর৷

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

প্রয়াত প্রবীণ পিডিএস নেতা সমীর পুততুণ্ড। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। গত কয়েক দিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। রবিবার রাত সওয়া ১১টা নাগাদ শেষ নিশ্বাস ফেলেন। গভীর রাতে সমীরের প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করেন তাঁর ভাই সঞ্জয় পুততুণ্ড।

আরও পড়ুনঃ ❝ সব তীর্থ বারবার গঙ্গাসাগর এক বার..!❞ গঙ্গাসাগরে মকরস্নানের সমাগম কপিল মুনির আশ্রম ঘিরেই, কে এই কপিলমুনি…?

১৯৫২ সালে জন্ম সমীরের। তাঁর রাজনীতিতে উত্থান সিপিএমের ছাত্রসংগঠন থেকে। একদা সিপিএমের ছাত্রনেতা ধাপে ধাপে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক হয়েছিলেন। ছিলেন দলের শীর্ষ দায়িত্বেও। পরে দলের ‘রাজনৈতিক লাইন’ নিয়ে তাঁর সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বদের মতবিরোধ ঘটে। প্রয়াত নেতা সুভাষ চক্রবর্তী সিপিএম ছেড়ে বেরিয়ে নতুন দল গঠনের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু শেষ সময় সুভাষ দল ছাড়েননি। জ্যোতি বসুর কথায় তিনি পিছিয়ে যান। তবে সমীর পিছিয়ে যাননি। তিনি দল ছাড়েন। সিপিএম তাঁকে বহিষ্কার করে।সমীরেরই মতো শরিক আর এক বহিষ্কৃত নেতা স‌ইফুদ্দিন চৌধুরী মিলে গঠন করেন নতুন রাজনৈতিক দল পিডিএস।

সমীরের স্ত্রী অনুরাধা পুততুণ্ডও ছিলেন সিপিএমের সর্ব ক্ষণের কর্মী। তিনিও সমীরের সঙ্গে দল ছাড়েন এবং পিডিএসে যোগ দেন।

সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের সময়ে ত‌ৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ছিলেন সমীর-অনুরাধা। সিঙ্গুরে অবস্থানের সময় পুততুণ্ড দম্পতি মমতার মঞ্চে ছিলেন। পরবর্তী কালে অবশ্য মমতার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক দুরত্ব তৈরি হয়েছিল।

সমীরের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতেই তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, “একদা বাম আন্দোলনের শক্তিশালী নেতা সমীর পুততুণ্ডকে হারিয়ে আমি খুবই মর্মাহত। মনে হচ্ছে, আমি নিজের কাউকে হারালাম। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছিলাম। অনুরাধাদিকে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা নেই, তবুও সর্বদা পাশে আছি।”

আরও পড়ুনঃ আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত, সুরের সফর থামল অকালেই; প্রয়াত দার্জিলিংয়ের প্রশান্ত তামাং

তাত্ত্বিক নেতা ছিলেন সমীর। ভারতের ইতিহাস, আন্দোলন বিশেষত মার্ক্সবাদী আন্দোলনের বিষয়ে নিবিড় পড়াশোনা এবং পাণ্ডিত্য ছিল সমীরের। তবে তাঁর গঠিত দল পিডিএস নির্বাচনে কখনও তেমন সাফল্য পায়নি। ধীরে ধীরে রাজ্যের রাজনীতিতে খানিকটা প্রান্তিক হয়ে পড়েন সমীর-অনুরাধা। তবে কখনওই বৃহৎ কোনও দলের সঙ্গে তাঁরা মিশে যাননি। পিডিএস বরাবর তাঁদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব নিয়েই থেকেছে। সীমিত সামর্থ্যে সমীর-অনুরাধা প্রতি বছর ভারত সংখ্যক প্রকাশ করেছেন।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সিপিএমের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক ছিল সমীরের। তবে দলের প্রথম সারির কিছু নেতার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল ছিল। একদা তিন বিদ্রোহী সুভাষ-সমীর-স‌ইফুদ্দিন সিপিএমের ভিতরে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন। সুভাষ এবং সফি আগেই প্রয়াত। এ বার চলে গেলেন সমীরও।

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন