জাতীয় রাজনীতিতে বর্তমানে অন্যতম চর্চিত ও পরিচিত মুখ, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা (Neha Bora)। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের জেন-জি (Gen-Z) আন্দোলন প্রসঙ্গে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তিনি। নেহার দাবি, বর্তমান ভারতে ছাত্র ও যুব সমাজের যে আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার মূল অনুপ্রেরণা এসেছে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ থেকেই। আর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিদেশি যোগ ও ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন জোরালো হতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুনঃ আরশোলার আয়ু আর ৪৮ দিন; ট্রাম্প হারলে উঠে যাবে সিজেপি
ঠিক কী বলেছেন আইসা নেত্রী নেহা বোরা?
সোশ্যালিস্ট স্টুডেন্টস ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিয়ে নেহা বোরা প্রকাশ্যেই বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তাঁকে বলতে শোনা যায়:
-
“আপনাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। আপনাদের কাছ থেকেই আমরা অনুপ্রেরণা নিই এবং আপনাদের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনগুলো থেকে শিক্ষাগ্রহণ করি।”
-
বাংলাদেশের জেন-জি আন্দোলনকে সামনে রেখেই তিনি বলেন, “আমরা জানি যে, এই দেশে সর্বত্র আমরা এখন যে জেন-জি আন্দোলন দেখতে পাচ্ছি, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আর আমাদের সেই পথ দেখানোর জন্য আপনাদের জানাই অভিনন্দন।”
বিদেশি যোগের অভিযোগ ও নাহিদ ইসলামের মন্তব্য প্রসঙ্গ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নেহা বোরার এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি সেই জল্পনাকেই আরও শক্ত ভিত দিচ্ছে, যা এতদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রতিবাদ আন্দোলনে বিদেশি হাত থাকার তত্ত্বকে সামনে এনেছিল।
-
বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ তথা হাসিনা-বিরোধী ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম দিল্লির ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, “সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।”
-
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ককোরোচ জনতা পার্টির নির্বাচন কমিশন বিরোধী আন্দোলন বা সাম্প্রতিক দিল্লির রাজপথের ছাত্র বিক্ষোভে যে আন্তর্জাতিক বা প্রতিবেশী দেশের ছাত্র অসন্তোষের প্রচ্ছন্ন সংযোগ রয়েছে, নেহার সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই গুঞ্জনকে আরও উসকে দিল।
আরও পড়ুনঃ কেন দেশের পরিবেশ নষ্ট করছেন? আমজনতার তীব্র ক্ষোভের মুখে অভিজিৎ দীপকে
দিল্লির রাজপথ ও নির্বাচন কমিশন বিরোধী আন্দোলন
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং ‘ভোটচুরি’র গুরুতর অভিযোগ তুলে গত ১০ অক্টোবর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে ও জন্তর মন্ত্রীর আশপাশে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় ককরোচ জনতা পার্টি ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। পুলিশের শক্তপোক্ত ব্যারিকেড ও কঠোর পদক্ষেপের মুখেও আন্দোলন চালিয়ে যান নেহা বোরা, অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কারা।
পুলিশ একাধিকবার আন্দোলনকারীদের আটক করলেও রাজপথের এই লড়াইয়ে জেন-জি প্রজন্মের ভূমিকা এবং তার নেপথ্যে প্রতিবেশী দেশের আন্দোলনের আদর্শগত প্রভাব নিয়ে এখন জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র তরজা শুরু হয়েছে। দেশের অন্দরের রাজনৈতিক অসন্তোষে বাইরের দেশের ছাত্র আন্দোলনের এই প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


