spot_img
Wednesday, 4 March, 2026
4 March
spot_img
HomeদেশInternational Men's Day 2025: "মর্দ কো দর্দ নেহি হোতা"…..পুরুষ দিবসের ধারণাকে প্রশ্ন...

International Men’s Day 2025: “মর্দ কো দর্দ নেহি হোতা”…..পুরুষ দিবসের ধারণাকে প্রশ্ন পুরুষ দিবসেই

'আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস' উপলক্ষে আমি মহিলা অপরাধী বা মহিলাদের দ্বারা করা অপরাধের কথা তুলে ধরছি না।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা:

কথায় আছে “মর্দ কো দর্দ নেহি হোতা”….. ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত আমরা এই কথাটাই শুনে বড় হয়েছি। শুধু বাড়ির লোকের থেকে নয়, গোটা সমাজ আমাদের মনে এই কথাটি ঢুকিয়ে দিয়েছে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, স্কুলজীবন থেকেই একপ্রকার আমাদের মধ্যে এই চিন্তা-ভাবনা বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে এই সমাজ নাকি ‘পুরুষতান্ত্রিক’ এবং এই ‘পুরুষতান্ত্রিক’ সমাজের নারী নাকি নির্যাতিত, পীড়িত ও শোষিত। যদি একটু অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন বা গভীরভাবে চিন্তা করেন, তাহলে বুঝবেন যে আমাদের এটাই বুঝিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে যে নারী মানে সর্বদা দেবী আর পুরুষ মানেই সর্বদা অসুর।

আরও পড়ুনঃ ভারতের জেমস বন্ড; পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ঘোষনার আগেই হঠাৎ সক্রিয় কেনও অজিত ডোভাল?

কিন্তু আজকের দিনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল যে এ কেমন ‘পুরুষতান্ত্রিক সমাজ’? আজ ১৯শে নভেম্বর। গোটা বিশ্বে পালন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। তবে যেহেতু এখানে লিঙ্গ পুরুষ বলে তেমন গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয় না। তবে নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। একেক জায়গায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিশাল বড় সেলিব্রেশন বা অনুষ্ঠান হয়। শুধু তাই নয়, বহু নারী সংগঠন আবার র‍্যালি নিয়ে বেরোয় বিভিন্ন দেশে, আমাদের ভারতে, আমাদের রাজ্যের রাজপথগুলিতে। কিন্তু যেহেতু এখানে বিষয়টি পুরুষদের নিয়ে, তাই তেমনভাবে গুরুত্ব দিয়ে এটি দেখা হয় না। কিছু পুরুষ অধিকার সংগঠন এই দিনটি অভিনব কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করে। তাছাড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ব্যাপারে কোন সচেতনতা নেই বলাই যায়।

এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে কিন্তু নারী ও পুরুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে না। বরং বাস্তব চিত্রটা তুলে ধরা হচ্ছে। সমাজে যদি নারী নির্যাতন হয় পুরুষের দ্বারা, তাহলে দেখবেন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, চারিদিকেই দেখা যায় প্রতিবাদ। তোলা হয় অপরাধী পুরুষটির ফাঁসির দাবিও। কিন্তু এখানে জেন্ডারটি একবার উল্টা করে দিন। দেখবেন তেমন কোন প্রতিবাদ দেখাই যায় না। ২ শতাংশ লোক কি তারও কম, এই ব্যাপারে একটু সোচ্চার হন ঠিকই। কিন্তু অধিকাংশই চুপ থাকেন। আওয়াজ তখনই ওঠান যখন ভিকটিম হন কোন নারী। হ্যাঁ, তাই বলে এটা বলছি না যে নারীদের উপর নির্যাতন সমর্থন করা হোক। এই প্রতিবেদন থেকে এটাই বার্তা যে পুরুষ দ্বারা নারী নির্যাতন হলে যেমন আওয়াজ ওঠানো হয়, তেমনি নারী দ্বারা পুরুষ নির্যাতন হলেও তেমন আওয়াজ ওঠানো উচিত। নারী মানেই সে সর্বদা দেবী, তা কিন্তু নয়।

এবার আসা যাক কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে। ক্রাইম স্টোরি নিয়ে শীঘ্রই একটি প্রতিবেদন আলাদা করে তুলে ধরা হবে। আমাদের দেশে যা আইন আছে সব কটা নারী-কেন্দ্রিক। পুরুষদের জন্য আইন তো দূর, সামান্যতম সুযোগ-সুবিধাও নেই। যেমন ধরে নিন বাসগুলিতে। আপনারা দেখবেন ‘লেডিস সিট’ বলে আলাদা করে লেখা থাকে। এবার হয়তো প্রশ্ন ওঠাবেন যে কেন পুরুষদের জন্য তো জেনারেল সিট রয়েছে? হ্যাঁ তা হয়তো রয়েছে। কিন্তু দিনের শেষে খাটনির পর যখন একজন পুরুষ জেনারেল সিট ভর্তি দেখে লেডিস সিটে বসেন, তখন কোন মহিলা এলে তাঁকে সেটা ছেড়ে দিতে হয়। কিন্তু উল্টো দিকে দেখুন। কোন মহিলা যদি এসে জেনারেল সিটেও বসে, তাঁকে কিন্তু ছেড়ে দিতে দেখা যায় না কোনও পুরুষের জন্য। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে  যে একজন পুরুষ মানুষ যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁকে জেনারেল সিট ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে কোনও মহিলা বসবেন বলে। কিন্তু উল্টোটা কি কোনও নারীর ক্ষেত্রে হবে? হলে রীতিমতো আগুন লেগে যাবে সমাজে।

এবার আসা যাক সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে। এই বিষয়টিতে যাওয়ার আগে বলে রাখা প্রয়োজন মনে করি যে আমি কোন সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে বলছিনা। সমস্ত রাজ্যের রাজ্য সরকার বলুন কি দেশের কেন্দ্রীয় সরকার, সকলেই নারীদের জন্য প্রকল্পের বন্যা বইয়ে দেয় সুযোগ পেলেই। বিশেষ করে নির্বাচন দোরগোড়ায় থাকলে তো কোনও কথাই হবে না। যেমন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একাধিক নারী কেন্দ্রিক প্রকল্প রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম লক্ষ্মীর ভান্ডার ও কন্যাশ্রী। এছাড়াও আরো ছোটখাটো প্রকল্প রয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকারও নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প চালু করেছে এবং আগামীদিনে যে তা বাড়বে, তা না বললেও চলে।

এক্ষেত্রে প্রশ্ন থাকছে যে সমাজটা কি একমাত্র নারীদের উপরই নির্ভর করছে? আমি বলছি না যে গরিব ঘরের মেয়েদের এই অর্থের প্রয়োজন নেই। নিশ্চয়ই আছে এবং তা অতি অবশ্যই দেওয়া উচিত। কিন্তু কথাটা হচ্ছে যে আলাদা করে ‘কন্যাশ্রী’, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’…. এগুলি যথেষ্ট ডিসক্রিমিনেটিং শোনায়। অনেকে বোঝেন কিন্তু সমাজের ভয়ে মুখ খুলতে চান না। হ্যাঁ নিশ্চয়ই আর্থিক সাহায্য দেওয়া হোক। কিন্তু সেই মহিলাদের, যাদের সত্যি সেটা প্রয়োজন। সঙ্গে পুরুষদেরও দেওয়া হোক। যদি ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ চালু করা হয়, তাহলে ‘নারায়ণ ভান্ডার’ও চালু করা হোক। ‘কন্যাশ্রী’ হলে ‘পুত্রশ্রী’ও হোক। ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ হলে ‘বেটা বাঁচাও বেটা পড়াও’ও হোক। আর্থিক সাহায্য কিন্তু পুরুষদেরও দরকার। রিজার্ভেশনের কথা তো বাদই দিলাম। ওটা আরও ভয়ংকর বিষয়।

এবার আসা যাক একটু সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম নিয়ে। ফেসবুক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে আপনারা দেখতে পাবেন পুরুষদের উপর অত্যাচারকে ‘মিম মেটিরিয়াল’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অনেকে দেখবেন সমাজমাধ্যমে ‘হাজবেন্ড ব্যাটারিং’কে মিম হিসেবে তুলে ধরছেন। কিন্তু একবার এখানে জেন্ডারটা উল্টো করুন, তখন দেখবেন ক্ষোভের আগুন কাকে বলে। হয়তো রাস্তায় মোমবাতি মিছিলও শুরু হয়ে যাবে। এটাতো সামান্য একটা উদাহরণ দিলাম। এমনও অনেক পোস্ট দেখেছি যেখানে ‘পুরুষাঙ্গ কর্তন’কে মিম হিসেবে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু এই একই জিনিস যদি কোন নারীর প্রাইভেট পার্ট নিয়ে লেখা হতো, তাহলে বুঝতে পারছেন কি হতো এতক্ষণে? পোস্টদাতার জেল হয়ে যেত। তার সঙ্গে আইন-আদালত তো রয়েছেই। হ্যাঁ এটা বলছি না যে নারীদের নিয়ে কোন খারাপ কথা বা মিম বানানো উচিত। কিন্তু এই জিনিসটাও সঙ্গে শেখানো উচিত যে পুরুষদের নিয়েও এটা করা যায় না।

আরও পড়ুনঃ আজ অগ্রহায়ণের অমাবস্যা, যা মার্গশীর্ষ অমাবস্যা নামেও পরিচিত, মায়ের পুজোর দিন

এবার আসা যাক সোশ্যাল ইস্যু নিয়ে। সর্বদাই কোন বিয়ে ভাঙলে ভরে নেওয়া হয় যে এর জন্য দায়ী স্বামী। স্ত্রী নয়। কিন্তু আসল সত্যিটা কি তা খুব কম লোকই বোঝেন। এরকম একাধিক ঘটনা আজকের দিনে জনসম্মুখে এসেছে যেখানে প্রথম থেকে আমরা ধরে নিয়েছিলাম যে স্বামী দায়ী। কিন্তু পরে দেখা গেল যে আসল অপরাধী সেই কপট বধু। এমন কত ঘটনা আছে। একবার নিজের এলাকাতেই কান পাতুন। দেখবেন এমন অজস্র ঘটনা ঘটে চলেছে। যদিও একশ্রেণীর মানুষ সবকিছু জেনে বুঝেও বলবেন যে তাঁদের এলাকায় নারী নির্যাতনের ঘটনা প্রচুর। যাই হোক, সেটা তাঁদের ব্যাপার। তবে এমন অনেক ঘটনা জনসম্মুখে আনার ক্ষমতা রাখি, যদি সেই একশ্রেণীর মানুষ তা হজম করার ক্ষমতা রাখেন। একইসাথে এটাও বলব যে আমাকে সামনে আনতে হবে না। খবরে কাগজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন খবরের ওয়েবসাইট খুলুন। এমনি অনেক ঘটনা পেয়ে যাবেন। আবারও বলবো একশ্রেণীর মানুষ সেগুলি দেখতে পাবেন না। বলা ভালো, দেখেও দাবি করবেন যে তা হয়নি।

‘আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস’ উপলক্ষে আমি মহিলা অপরাধী বা মহিলাদের দ্বারা করা অপরাধের কথা তুলে ধরছি না। আমি চাই আজকের দিনটি শুধু পুরুষরা নয়, নারীরাও একসঙ্গে ভালোভাবে কাটান। ‘আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস’ উপলক্ষে আমি মহিলা অপরাধী বা মহিলাদের দ্বারা করা অপরাধের কথা তুলে ধরছি না।আমার নারী দ্বারা করা এই অপরাধগুলি তুলে না ধরার অন্য কারণ হলো যে আমি নিজেকে সেই শ্রেণীর মানুষদের পর্যায়ে নামাতে চাই না, যাঁরা দিনরাত পুরুষ বিদ্বেষ ছড়ান নিজেদের স্বার্থে। বিশেষ করে একশ্রেণীর পুরুষরা আমি মনে করি নারী কল্যাণ নিয়ে কারণে-অকারণে বলেন তাঁদের ভালোর জন্য নয়। বরং কিছু চাহিদা মেটানোর জন্য। যাক আজ নাহয়, সেই বিষয়ে নাই গেলাম।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন