পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে কড়াকড়ি ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুলিশের অভিযানে অপরাধী ও ইতিহাস-খ্যাত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অনেকে নিজে থেকে আত্মসমর্পণও করেছেন। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য স্পষ্ট ভোট প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখা, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।ইসির নির্দেশে রাজ্য পুলিশ বিভিন্ন জেলায় একযোগে অভিযান চালিয়েছে।
মালদা, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহারসহ অতীতে হিংসার ঘটনায় কুখ্যাত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০০-র বেশি সংবেদনশীল স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে অতীতে বুথ দখল, হিংসা বা ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের দাবি, এই অভিযানে শুধু গ্রেফতারই নয়, অনেক অপরাধী নিজে থেকে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করছেন, যা দেখে মনে হচ্ছে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ গৌতম বনাম শঙ্কর; শিলিগুড়ি তুমি কার?
প্রথম দফার ভোট আগামী ২৩ এপ্রিল। এই দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। রাজ্যের মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১৫২টি এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে। প্রথম দফায় ৫০ হাজারেরও বেশি বুথে ভোট হবে। এত বড় নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু রাখতে ইসি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম (কিউআরটি) মোতায়েন করা হয়েছে, সেন্সিটিভ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে।
মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, দক্ষিণ ২৪ পরগনাসহ বিভিন্ন জেলায় রাতারাতি অভিযান চালিয়ে ইতিহাস-খ্যাত অপরাধীদের তুলে আনা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এঁদের অনেকের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, অস্ত্র মামলা, বুথ দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি জেলায় একসঙ্গে ১০৬ জনকে গ্রেফতারের খবরও এসেছে। ইসি চায়, ভোটের সময় কোনো ‘মাসলম্যান’ যেন ভোটারদের ভয় দেখাতে না পারে।
আরও পড়ুনঃ ৬ মে পর্যন্ত চরম ভোগান্তি যাত্রীদের! বাস নিয়ে নিচ্ছে কমিশন!
তাই প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার (প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট) করা হচ্ছে।এই অভিযান শুধু গ্রেফতারে সীমাবদ্ধ নয়। ইসি এআই-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে, পুলিশ কর্মীদের বডিক্যাম দেওয়া হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র, নগদ টাকা, মদ ও অন্যান্য প্রলোভনের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকশো কোটি টাকার প্রলোভন বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে, কারণ অতীতে এসব এলাকায় বাইরের প্রভাব দেখা গেছে।সাধারণ মানুষের মধ্যে এই পদক্ষেপ নিয়ে স্বস্তির হওয়া। একদিকে অনেকে বলছেন, এতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মহিলা ও সাধারণ ভোটাররা এই কড়াকড়িতে স্বস্তি প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ‘একতরফা’ বলে সমালোচনা করছে। তবে ইসি স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো দল দেখে নয়, শুধু অপরাধের রেকর্ড দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



