বনগাঁ থেকে ফেরার পথে বারাসত মেডিক্যাল কলেজের সামনে উত্তেজনা। হাসপাতালের গেটেই যশোর রোডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়কে ঘিরে ধরলেন ক্ষোভে ফেটে পড়া মানুষজন। অভিযোগ, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত এক যুবকের চোখ নাকি মর্গে থাকা অবস্থাতেই খুবলে নেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগেই দুপুর থেকে বিক্ষোভে টানটান পরিস্থিতি বারাসত মেডিক্যালে।
আরও পড়ুনঃ ‘দুর্ঘটনা নয়, সরাসরি খুন’, বিস্ফোরক দাবি হিমন্ত বিশ্বশর্মার
বিকেলের পর যশোর রোডে অবরোধও শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। ঠিক সেই সময়েই বনগাঁ থেকে কলকাতায় ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিক্ষোভের মুখে পড়ে থামে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়। এই সময় সরাসরি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধৈর্য ধরে শোনেন মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগ, ক্ষোভ আর অভিজ্ঞতার বর্ণনা।
সূত্রের খবর, ঘটনায় পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মৃতের মাকে সরকারি চাকরির আশ্বাসও দেন তিনি। হাসপাতালের সামনে ওই সময় উত্তেজনা আরও খানিক বাড়লেও মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
হাসপাতাল সূত্রের খবর, মৃত যুবকের নাম প্রীতম ঘোষ (৩৪)। বারাসতের ১ নম্বর রেলগেটের কাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন তিনি। বারাসত মেডিক্যালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অভিযোগ, হাসপাতালের মর্গ থেকে ওই যুবকের একটি চোখ খুবলে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দৈনিক ‘ট্র্যাফিক বুলেটিন’; শিলিগুড়িতে যানজট এড়াতে দিনে দু’বার মিলবে তথ্য
এদিন দেহ নিতে গিয়ে ওই পরিস্থিতি দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতর পরিজন ও স্থানীয়রা। হাসপাতালের অব্যবস্থা নিয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। এরই মধ্যে ওই পথ দিয়ে ফেরার পথে অবরোধের মধ্যে পড়ে প্রায় ১৫ মিনিট আটকে থাকে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়। সে সময় বিক্ষোভকারীদের কথা শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। কথা বলেন মৃতর পরিজনদের সঙ্গেও।
তাঁদের সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক। যথাযথ তদন্ত হবে। তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণ হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।”
সূত্রের খবর, নিহত যুবক পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন। যা শোনার পর ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই মৃত যুবকের মাকে সরকারি চাকরির আশ্বাসও দেন। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এরপরে অবরোধ উঠে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। তবে কীভাবে দুর্ঘটনাগ্রস্ত মৃত যুবকের চোখ মর্গ থেকে খুবলে নেওয়া হল, এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষরও কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।









