মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এক নয়া মোড় নিয়েছে। ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া বেশ কিছু দৃশ্য এখন সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে। দেখা যাচ্ছে, ইরানের মহিলারা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর জ্বলন্ত ছবি থেকে নিজেদের সিগারেট ধরাচ্ছেন। এই ঘটনাটি কেবল একটি ছবি নয়, বরং কট্টরপন্থী শাসনের বিরুদ্ধে ইরানি নারীদের এক চরম স্পর্ধার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বোমা-বারুদের উপরে বাংলা; উড়ল ছাদ, অগ্নিদগ্ধ কর্মীরা! ভয়াবহ বিস্ফোরণে কাঁপল চম্পাহাটি
বিদ্রোহের মূলে ‘অবাধ্যতা’
খামেনেইর ৮৬ বছরের দীর্ঘ শাসনকালে ইরান যে কঠোর সামাজিক বিধিনিষেধ এবং নারী অধিকার হরণের জন্য পরিচিত, এই প্রতিবাদ সেই ভিতকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। অর্থনীতি এবং আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন খামেনেই শাসনের পতন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এমন সরাসরি প্রত্যাখ্যান খুব কমই দেখা গিয়েছে। তেহরানের রাস্তায় এখন শুধু ‘সংস্কার’ নয়, বরং স্লোগান উঠছে, “খামেনেইর মৃত্যু চাই”।
সিগারেট এবং জ্বলন্ত ছবি: এক ভয়ানক সাহস
ইরানে সর্বোচ্চ নেতার ছবি পোড়ানো একটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। একই সঙ্গে নারীদের প্রকাশ্যে ধূমপান করাও সেখানে সামাজিকভাবে ভীষণভাবে নিয়ন্ত্রিত। এই দুই বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মহিলারা খামেনেইর ছবিতে আগুন ধরিয়ে ধূমপান করছেন।
২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া হিজাববিরোধী আন্দোলনের রেশ এই বিক্ষোভেও স্পষ্ট। তরুণীদের পাশাপাশি বয়স্ক মহিলারাও পথে নেমেছেন। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রক্তাক্ত মুখে এক বৃদ্ধা চিৎকার করে বলছেন, “আমি ভয় পাই না, আমি গত ৪৭ বছর ধরে মৃত।”
আরও পড়ুনঃ মাঘের আগেই বাঘের মতো শীত, দক্ষিণবঙ্গে পারদ নেমে গেল ৬ ডিগ্রির ঘরে! ঠান্ডার গ্রাফ ক্রমেই নামছে
মৃত্যুদণ্ডের পরোয়া নেই বিক্ষোভকারীদের
তেহরানের প্রধান প্রসিকিউটর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকারি সম্পত্তিতে আগুন দেওয়া বা সর্বোচ্চ নেতার অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। গত বছর ওমিদ সরলাক নামে এক ব্যক্তি খামেনেইর ছবিতে আগুন দেওয়ার ভিডিও পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু এবারের বিক্ষোভকারীরা সেই ভয়কেও জয় করেছেন। শনিবারের বিক্ষোভে এক চিকিৎসকের দাবি অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে প্রশংসা
ইরানি নারীদের এই অসীম সাহসকে কুর্নিশ জানাচ্ছে সারা বিশ্ব। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ডঃ মালুফ টুইট করেছেন, “তরুণী ইরানি মহিলারা ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।” অনেকে একে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে সাহসী নারী আন্দোলন বলে অভিহিত করছেন। শুধু হিজাব পোড়ানো নয়, স্টেডিয়ামে মাথা না ঢেকে প্রবেশ করা বা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব আইন লঙ্ঘন করার মাধ্যমে মহিলারা বারবার খামেনেইর কর্তৃত্ববাদী নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছেন।









