বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক সহিংসতার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠল সিলেটের গোয়াইনঘাটে। সেখানে বীরেন্দ্র কুমার দে (ঝুনু) নামে এক হিন্দু শিক্ষকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে একদল দুষ্কৃতী। টাইমস নাউ-এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আগুনের লেলিহান শিখা যখন বাড়িটিকে গ্রাস করছিল, তখন পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে আর্তনাদ করতে করতে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুনঃ উত্তাল বেলডাঙা! ঝাড়খণ্ডে বাংলার শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পুরো বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, তাঁদের আসবাবপত্র, সঞ্চিত অর্থ এবং শিক্ষা সনদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সকল নথি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জাতিসত্তার ওপর হামলার ঘটনা যেন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এই আশঙ্কার পালে হাওয়া দিচ্ছে৷
আরও পড়ুনঃ মাঘের শুরুতেই শীতের দাপট কমার ইঙ্গিত!
হেফাজতে মৃত্যু: সম্প্রতি পাবনায় প্রখ্যাত হিন্দু সংগীতশিল্পী ও আওয়ামী লীগ নেতা প্রলয় চাকি পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যুবরণ করেন, যা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
নৃশংস হত্যাকাণ্ড: চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে যথাক্রমে অটোচালক সমীর দাস এবং ব্যবসায়ী শরৎ চক্রবর্তী মণিকে অত্যন্ত বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে যশোরে সাংবাদিক রানা প্রতাপ বৈরাগীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাকে গুলি করে এবং গলা কেটে হত্যা করা হয়।
সংখ্যালঘু পল্লীতে অগ্নিকাণ্ড: পিরোজপুরের পশ্চিম ডুমরিতলা গ্রামে সাহা পরিবারের তিনটি বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই সিলেটে এই নতুন হামলা ঘটল।
সংখ্যালঘু হত্যার এই ধারাকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছে ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা কোনো ধরনের “বিচারবহির্ভূত সহিংসতা বা গণপিটুনি সমর্থন করে না।” তবে প্রশাসনের এই আশ্বাসের পরও মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তাহীনতা কাটছে না বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।









