ময়না বিধানসভার অন্তর্গত বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মহিলারা পাচ্ছেন না লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা। আর এ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল জানস্বার্থ মামলা। আবেদনকারী বাগচা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুনীতা মণ্ডল সাহু ৷
আরও পড়ুনঃ কাশীর নীরব কান্না! উন্নয়নের নামে ইতিহাস ও প্রাণের নির্বাসন…
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না বিধানসভার ময়না ব্লকের বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েত ও গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে রয়েছে ৷ অভিযোগ, এই কারণে সেখানকার মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না ৷ যা নিয়ে আগেই সরব হয়েছেন তাঁরা ৷ অভিযোগ, বিজেপির সমর্থক হওয়ায় তাঁদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৷
আবেদনকারীর দাবি, রাজ্যের সর্বত্র মহিলারা লক্ষীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন । কিন্তু বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে থাকায় সেখানকার মহিলা নাগরিকরা পাচ্ছে না। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের এজলাসে হবে মামলার শুনানি। এর আগে মামলাকারী বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলা দায়ের করার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু বিচারপতি জানান, এই বিষয়টি জনস্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়। তাই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে আবেদন জানাতে বলেন বিচারপতি রাও ৷ এরপর প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন আবেদনকারী ৷
আরও পড়ুনঃ শীতের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে রাজ্য, স্পষ্ট হচ্ছে পরিবর্তনের ছবি
আদালত সুত্রে খবর, বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত । গত 6 মাস ধরে প্রায় 7 হাজার 200 মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন না ৷ বিজেপির সদস্য হওয়ার জন্যই সরকারি প্রকল্প বঞ্চিত হতে হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় মহিলাদের ৷ একাধিক বার জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে ৷ কিন্তু তাতেও কাজের কাজ হয়নি ৷ কোনও জায়গা থেকে সুরাহা না-মেলায় অবশেষে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য। তাঁর বক্তব্য জেলাশাসক একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছেন ৷ কিন্তু এখনও টাকা মেলেনি ৷ জানুয়ারি মাসে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনের তরফে ৷ কিন্তু জানুয়ারি মাসের 20 দিন কেটে গেলেও টাকা মেলেনি ৷ তাই বাধ্য হয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন।
2021 সালে বাংলার মেয়েদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে 25 থেকে 60 বছর বয়সি মহিলারা পান মাসিক 1 হাজার টাকা করে ৷ তবে তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি শ্রেণির মহিলারা পান 1 হাজার 200 টাকা। এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ভাণ্ডার এবং তার দ্বারা উপকৃত মহিলারা তৃণমূলের বড় ভরসা বলেই মনে করছে রাজনৈতির মহল ৷ গত কয়েকটি নির্বাচনে বারবার মহিলাদের সমর্থন পাওয়া তৃণমূল এবারও তাদের পাশে চায় ৷ আর তাই প্রশাসনিক সভা থেকে জনসভা সর্বত্র লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কথা মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে তৃণমূলের প্রায় সব নেতা-নেত্রীরা ৷ এবার সেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা না পেয়ে আদালতে মামলা করলেন বিধানসভা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারাীর জেলার এক মহিলা ৷





