পূজা অধিকারী, বহরমপুরঃ
হুগলি জেলার খানাকুল থানার অন্তর্গত রাজহাটি এলাকায় সরস্বতী পুজোকে ঘিরে এক ব্যতিক্রমী ও বিরল ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হলো। পশ্চিমবঙ্গ তথা গোটা ভারতবর্ষে এই প্রথমবার সরস্বতী পুজোয় কুমারী পূজার আয়োজন করা হলো বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
আরও পড়ুনঃ “হাল ছেড়ো না বন্ধু”; গিটার ছেড়ে পতাকার ঝান্ডা অরিজিৎ-এর!
স্থানীয় পাল বাড়িতে অনুষ্ঠিত এই কুমারী পূজায় দুই শিশু কন্যাকে দেবী সরস্বতীর প্রতীক রূপে পূজা করা হয়। পূজিত কুমারীরা হলেন—
কুমারী শারন্যা পাল এবং কুমারী রাজন্যা পাল।
তাঁদের বয়স ৩ বছর ৮ মাস।
কুমারীদের পিতা শ্রী রাজর্ষি পাল এবং মাতা শ্রীমতি সুচেতা দাস।
এই পূজার আচার সম্পন্ন করেন পুরোহিত শ্রী অমিয় মিশ্র মহাশয়।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কুমারী পূজার পেছনে মূলত তিনটি সামাজিক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথমত, সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণের পর যে সামাজিক অবহেলা বা অবমূল্যায়ন দেখা যায়, তা দূর করা।
দ্বিতীয়ত, শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ কন্যা নয়, সমাজের সব সম্প্রদায়ের কন্যাসন্তানকে কুমারী রূপে পূজার স্বীকৃতি প্রদান।
তৃতীয়ত, প্রতিটি পরিবার যদি তাদের কন্যাসন্তানকে দেবীরূপে সম্মান করে, তাহলে নারী নির্যাতন ও অবহেলার মতো সামাজিক ব্যাধি রোধ করা সম্ভব হবে বলে তাঁদের আশা।
উদ্যোক্তারা আরও জানান, এতদিন দুর্গা, কালী ও জগদ্ধাত্রী পূজার সঙ্গে কুমারী পূজার প্রচলন থাকলেও সরস্বতী পুজোয় এই রীতি চালু ছিল না। সেই প্রথার বাইরে গিয়ে এই বছর প্রথমবার সরস্বতী পুজোয় কুমারী পূজার সূচনা হলো।
আরও পড়ুনঃ পর্যটকদের জন্য সুখবর! পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্সের সমন্বয়ে হবে ষষ্ঠ বেঙ্গল হিমালয়ান কার্নিভাল
পূজা কমিটির দাবি, এই কুমারী পূজা সম্পূর্ণ শাস্ত্রসম্মত ও বিধিসম্মত। কারণ শাস্ত্র অনুযায়ী তিন বছর বয়সী কুমারীদের পূজাসম্মত নাম ‘সরস্বতী’ হিসেবেই গণ্য করা হয়।
উদ্যোক্তাদের আশা, সরস্বতী পুজো যেহেতু প্রায় প্রতিটি পরিবারেই পালিত হয়, তাই এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং ভবিষ্যতে কন্যাসন্তান দেবীরূপে পূজিত হওয়ার সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হবে।









