দোরগোড়ায় নির্বাচন। তার আগেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকার রাজপথ। ইনকিলাব মঞ্চ ইনকিলাব মঞ্চ বা প্ল্যাটফর্ম ফর রেভল্যুশন)-এর সদস্যরা শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ) বিক্ষোভ মিছিল বের করে শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। হাদি, যিনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা ও মুখপাত্র ছিলেন, গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান।
আরও পড়ুনঃ হচ্ছেটা কি? আবার কেঁপে উঠল দেশ; কেঁপে উঠল লখনউ-উত্তরাখণ্ড
১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় মোটরসাইকেলে করে আসা মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও তিনি বাঁচেননি।হাদির মৃত্যুর পর থেকেই ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আজকের বিক্ষোভে তারা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের কাছে জামুনা ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাস্তা “আমরা সবাই হাদি, যুগে যুগে লড়ে যাবো”, “হাদির খুনিদের ফাঁসি চাই”, “আমরা হাদি, হাদি”। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, হাদির হত্যা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটা ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের আদর্শের ওপর আঘাত। তারা অভিযোগ করেন যে অন্তর্বর্তী সরকার বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি করছে এবং খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে।পুলিশ অবশ্য বিক্ষোভকারীদের জামুনা পর্যন্ত পৌঁছাতে দেয়নি।
রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করে, জলকামান, টিয়ার গ্যাস এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ বাধে। কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর। পুলিশ জানিয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছে কিন্তু রাস্তা অবরোধ ও সরকারি ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়া নিষিদ্ধ।
আরও পড়ুনঃ প্রকাশ্য দিবালোকে খুন আম আদমি পার্টির নেতা লাকি ওবেরয়
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাদির হত্যার তদন্ত চলছে এবং রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের অফিসকে (OHCHR) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বলছেন, এই প্রস্তাব যথেষ্ট নয়। তারা সরাসরি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত চান এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
হাদি ছিলেন ৩২ বছরের যুব নেতা, যিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ভারতের প্রভাবের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ঢাকায় সংবাদপত্র অফিস, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং ভারতীয় মিশনের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছিল। এখন আবার আন্দোলন তীব্র হওয়ায় ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে।





