ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একটি নতুন কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘হেক্সাগন অফ অ্যালায়েন্সেস’ বা ছয়কোণীয় জোট। এই জোটের মূল উদ্দেশ্য হলো ভারত, গ্রিস, সাইপ্রাস, আরব দেশগুলো, আফ্রিকান রাষ্ট্র এবং এশিয়ার বিভিন্ন অংশীদার দেশকে একত্রিত করে চরমপন্থী ইসলামবাদী হুমকির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ব্লক গড়ে তোলা। জোটটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক সমর্থন এবং নিরাপত্তা-সম্পর্কিত সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করবে।
নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এই জোটে আমেরিকার কোনো অর্থায়নের প্রয়োজন হবে না এটি স্বাধীনভাবে গড়ে উঠবে এবং চলবে।ইজরায়েলের একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি বৈঠকে নেতানিয়াহু বিস্তারিতভাবে বলেন, “আমি যে ভবিষ্যৎ দেখছি, তাতে মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে একটি ছয়কোণীয় ব্যবস্থা তৈরি হবে। এতে ভারতের মতো বৈশ্বিক শক্তি, গ্রিস ও সাইপ্রাসের মতো ভূমধ্যসাগরীয় দেশ, আরব বিশ্বের কয়েকটি রাষ্ট্র, আফ্রিকান দেশ এবং এশিয়ার অংশীদাররা অন্তর্ভুক্ত হবে।
এই জোটের লক্ষ্য হবে চরমপন্থী শিয়া অক্ষ (ইরানের নেতৃত্বাধীন) এবং উদীয়মান চরমপন্থী সুন্নি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে একটি সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভারত একটি বৈশ্বিক শক্তি এবং ইজরায়েলের সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত বিশেষ ও গভীর।এই ঘোষণা ঠিক সেই সময়ে এসেছে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইজরায়েল সফর খুব কাছে। ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি এই সফরে মোদী ইজরায়েলের পার্লামেন্ট কনেসেটে ভাষণ দেবেন এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে গভীর আলোচনা হবে।
নেতানিয়াহুর এই দৃষ্টিভঙ্গি ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ককে কৌশলগত স্তরে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।এই জোটের ধারণা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ইরানের প্রভাব এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হুমকির বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য। ভারতের অন্তর্ভুক্তি এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারত ইতিমধ্যে ইজরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, ড্রোন, মিসাইল, সাইবার এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গভীর সহযোগিতা করছে।
গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে ইজরায়েলের ত্রিপক্ষীয় সম্পর্ক ভূমধ্যসাগরে শক্তি ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করছে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডের অংশীদার আরব দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই জোট চরমপন্থার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ফ্রন্ট গড়ে তুলতে পারে। আফ্রিকান ও এশিয়ান দেশগুলো যোগ দিলে এটি আরও বিস্তৃত এবং প্রভাবশালী হয়ে উঠবে।
নেতানিয়াহুর এই প্রস্তাবে আমেরিকার অর্থায়ন ছাড়াই জোট গড়ার কথা বলা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের দেশগুলোর স্বাধীনতা ও স্বনির্ভরতার প্রতি জোর দেয়। এটি একই সঙ্গে ইরান-বিরোধী অক্ষকে শক্তিশালী করবে এবং দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। ভারতের মতো একটি বৈশ্বিক শক্তির অন্তর্ভুক্তি এই জোটকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও শক্তিশালী করে তুলবে।









