রাস্তায় এক যুবককে গুলি করে খুনের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তর হাওড়ার পিলখানায়। এই খুনের ঘটনায় এবার রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। খুনে মূল অভিযুক্ত হারুন খানের তৃণমূল যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর সঙ্গে হারুন খানের একাধিক ছবি সামনে এসেছে। খুনে অভিযুক্ত যুবক তৃণমূল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ। এই নিয়ে শোরগোল পড়তেই মুখ খুললেন উত্তর হাওড়ার বিধায়ক। কী বললেন গৌতম চৌধুরী?
এদিন ভোরে পিলখানায় সফিক খান নামে এক প্রোমোটারকে কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয়। সেই হাড়হিম খুনের ছবি ধরা পড়েছে সিসিটিভি ফুটেজে। হারুন খান ও রোহিত নামে আর একজন এই খুন করে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, হারুনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন দুষ্কর্মের অভিযোগ উঠেছে। হারুনের সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠতার কথাও বলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিয়োয় দেখা যায়, উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর বিভিন্ন প্রচারের তাঁর আশপাশেই রয়েছেন হারুন।
এই নিয়ে শোরগোল পড়তেই মুখ খুললেন গৌতম চৌধুরী। হারুনকে চিনলেও ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ অস্বীকার করেন। উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “আমরা জনপ্রতিনিধি। আমাদের সামাজিক কাজ করতে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এ মাটি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাটি। বাম আমল কাটিয়ে ২০১১ সালে এখানে শান্তি ফিরে এসেছে। যারা ক্রিমিনাল, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা জেলে যাবে। সময়ের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। আমি এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি।” এখানেই না থেমে তিনি আরও বলেন, “আমরা জনপ্রতিনিধি। এলাকায় ঘুরে বেড়াই। প্রচুর মানুষ আমাদের কাছে আসে। আপনার কাছে কেউ গেল। তারপর বেরিয়ে কোনও দুর্ঘটনা ঘটাল, তাহলে কি আপনি যুক্ত হবেন?”
তৃণমূল বিধায়ক এই যুক্তি দিলেও শাসকদলকে নিশানা করতে ছাড়ছে না গেরুয়া শিবির। বিজেপি মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এখন পশ্চিমবঙ্গে যা কিছু অপকর্ম, তার সঙ্গে তৃণমূল যুক্ত। আপনারা হারুন শেখের কথা বলছেন, একটু তদন্তে করে দেখবেন, এর পিছনে পুলিশেরও মদত আছে। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আইনশৃঙ্খলা জনিত যা কিছু হচ্ছে, তার সঙ্গে দুষ্কৃতী, তৃণমূলের নেতা এবং পুলিশের একটা চটিচাটা অংশের মদতে হচ্ছে। তবে ৬০ দিন পর পরিস্থিতি বদলাবে। কারণ, রাজ্যের মানুষ এই সরকারকে বিদায় করবে।” বিজেপি নেতা উমেশ রাই বলেন, “গত ২৬ জানুয়ারি পিলখানায় একটা বড় অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেখানে হারুন খানের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন গৌতম চৌধুরী। উনি গুন্ডাদের গ্রুপ তৈরি করেছেন।”









