ভারত ও ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বের এক অনন্য নজির স্থাপন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বুধবার থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দু’দিনের ইজরায়েল সফরে প্রোটোকল ভেঙে খোদ নেতানিয়াহু এবং তাঁর স্ত্রী সারা বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মোদীকে স্বাগত জানাবেন।
আরও পড়ুনঃ বামেদের অন্দরে এখন শুধুমাত্র ফিসফাস; লাল পতাকার গায়ে এখন সন্দেহের শ্বাস ও ত্রাস!
২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের পর এই বিশেষ অভ্যর্থনা প্রমাণ করে যে, দুই দেশের সম্পর্ক এখন প্রথাগত কূটনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একটি ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ পরিণত হয়েছে।
এই সফরের সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে সামরিক সহযোগিতা। সূত্রের খবর, ইজরায়েল তাদের বিশ্বখ্যাত ‘আয়রন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ভারতের নিজস্ব ‘সুদর্শন চক্র’ প্রোগ্রামের সঙ্গে এই প্রযুক্তির সংমিশ্রণ ঘটলে স্বল্পপাল্লার আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ভারত এক অভেদ্য ঢাল পেয়ে যাবে। ২০২৬ সালে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে, যা ইজরায়েলকে ফ্রান্সের পর ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গভূমি আদিশক্তির বাসস্থান; রানাঘাট মহিষমর্দিনী পূজা
প্রতিরক্ষার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মহাকাশ গবেষণার মতো ‘ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি’ নিয়ে নিবিড় আলোচনা করবেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। জেরুজালেমে একটি যৌথ উদ্ভাবন অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৫ সালের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির পর এবার একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
এই সফরেই প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইজরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’ -এ ভাষণ দেবেন। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং থেকে শুরু করে জল ব্যবস্থাপনা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, আগামী এক দশকের জন্য ভারত-ইজরায়েল সহযোগিতার একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি হবে এই সফরেই।









