জেন-জ়ির বিদ্রোহের পর নেপালে প্রথম নির্বাচন হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবেই মিটেছে নির্বাচন প্রক্রিয়া। এদিকে, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই গণনা শুরু হয়েছে। আর গণনার প্রাথমিক ট্রেন্ড বলছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ। জেন-জ়ি বিক্ষোভকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিল করেছিলেন বলেন্দ্র। ঝাপা কেন্দ্র থেকে ওলির বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। । ভোট গণনার প্রাথমিক ট্রেন্ড বলছে, ৭৪ বছরের ওলিকে ইতিমধ্যেই পিছনে ফেলে দিয়েছেন ব়্যাপার। ট্রেন্ড যদি এরকমই থাকে, তাহলে অলিকে হারিয়ে দিতে পারেন শাহ।
আরও পড়ুনঃ রবি উদয়ে কার আস্তে যাওয়ার আভাস! রাজ্যপাল পরিবর্তন একটা ভয়াল ইঙ্গিত
বলেন্দ্র শাহের প্রথম পরিচিতি ব়্যাপার হিসেবে। পরে তিনি রাজনীতিতে আসেন। হিমালয়ন হোয়াইট হাউস ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক পাশ করেন বলেন্দ্র শাহ। তারপর কর্ণাটকের ভিটিইউ থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করছেন। টেলিভিশন উপস্থাপকও ছিলেন। তারপর তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। গত ডিসেম্বরেই রবি লামিছানের নেতৃত্বে আরএসপিতে যোগ দেন। ২০২২ সালে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর মেয়র হিসেবেও নির্বাচিত হন বলেন্দ্র শাহ।
ওলি সরকারের পতনের পর বলেন্দ্রকেই অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী করতে চাইছিল জেন জি বিক্ষোভকারীদের একাংশ। তবে শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হন নেপাল সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী।
নেপালের জেন-জ়ির মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় বলেন্দ্র। জেন-জ়ির বিক্ষোভকে প্রকাশ্যে সমর্থনও করেছিল তিনি। সমাজমাধ্যম নিষিদ্ধকরণকে কেন্দ্র করেই বিক্ষোভ হয়। তারপরই নেপালে নির্বাচিত সরকারের পতন হয়। ক্ষমতাচ্যুত হন অলি। সেক্ষেত্রে, গত গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে নেপালের রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠেছেন বলেন্দ্র শাহ।
আরও পড়ুনঃ ভারতের জন্য সুখবর! হরমুজে চলবে ভারতীয় অয়েল ট্যাঙ্কার
ঝাঁপা কেন্দ্র অলির শক্ত ঘাঁটি। সেখানেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন বলেন্দ্র শাহ। তাহলে কি এবার নেপালের মুখ হতে চলেছেন বলেন্দ্র? তাঁকে দলের তরফে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে, বলেন্দ্র যদি প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে তা ভারতের জন্য খুব একটা ভাল নাও হতে পারে। বলেন্দ্র শাহ ‘ভারত-বিরোধী’ বলেই পরিচিত। ভারতের বিরুদ্ধে একাধিকবার নানা বিতর্কমূলক মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। ভারতের একাধিক রাজ্যকে নেপালের অংশ বলে দাবি করেছিলেন তিনি। ২০২৩ সালের জুন মাসে নিজের অফিসে নেপালের নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেই মানচিত্র নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়। সেখানে ভারতের অনেক রাজ্যকে গ্রেটার নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ভারত নেপালে শান্তি,অগ্রগতি এবং স্থিতিশীলতাকে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করে আসছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে মজবুত করার জন্য নেপালের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ ভারত।
প্রসঙ্গত, নেপালের পার্লামেন্টে নিম্নকক্ষে ২৭৫ আসনের সদস্যদের বাছতে বৃহস্পতিবার জোড়া ব্যালটে ভোটের আয়োজন হয়। এর মধ্য়ে ১৬৫টি আসন প্রত্যক্ষ এবং ১১০টি আসন পরোক্ষ। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই গণনা শুরু হয়েছে। ৯ মার্চের মধ্যে ফল ঘোষণা হতে পারে বলে খবর।









