দেশের গ্যাস সংকটের মধ্যে ইরান দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তদুপরি দুটি সূত্র এবং লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের জাহাজ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুসারে, সৌদি আরব থেকে পণ্যবাহী একটি অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কার ১ মার্চের দিকে প্রণালী দিয়ে যাওয়ার পর শনিবার ভারতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ যুদ্ধের আবহে সবকিছুরই বাড়ছে দাম! অথচ হু হু করে সস্তা হচ্ছে ডিম
ইরানি রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন
এই ট্রানজিট ভারতের সরবরাহ উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করার কয়েক ঘন্টা পরেই এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে যে ভারতের হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ প্রবেশাধিকার রয়েছে।
ভারত আমাদের বন্ধু- ইরান
ভারতের প্রবেশাধিকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, মোহাম্মদ ফাতালি বলেন, “হ্যাঁ, কারণ ভারত আমাদের বন্ধু। আপনি দুই বা তিন ঘন্টার মধ্যে এটি দেখতে পাবেন। আমরা বিশ্বাস করি যে এই অঞ্চলে ইরান এবং ভারতের স্বার্থ ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।”
ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ডঃ আব্দুল মাজিদ হাকিম এলাহিও ভারতীয় জাহাজগুলিকে অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। “প্রকৃতপক্ষে, এই বিষয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে এবং আমি নিশ্চিত যে ভারত তেল, গ্যাস এবং অন্যান্য সম্পদ থেকে উপকৃত হবে। তবে আমি মনে করি চূড়ান্ত সমাধান হল বিশ্ব নেতাদের একত্রিত হওয়া।”
ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা চালায় ইরানে। প্রত্যাঘাত শুরু করে তেহরানও। এর পরেই হরমুজ় প্রণালী দিয়ে একটিও বাণিজ্যিক জাহাজকে সেই থেকে যাতায়াত করতে দেয়নি তারা। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজ়তবা খামেনেই জানিয়ে দেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখবে ইরান সেনা। তাঁর কথায়, ‘‘শত্রুর উপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসাবেই অবরুদ্ধ করে রাখা হবে হরমুজ় প্রণালী।’’
এই পরিস্থিতিতে ভারতে এলপিজি গ্যাস আসাও বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ভারতে গ্যাস সরবরাহের ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে। ভারত প্রতি দিনের ১৯.১ কোটি আদর্শ ঘনমিটার (স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার) গ্যাস ব্যবহারের প্রায় অর্ধেকই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়া থেকে প্রায় ৬০ আদর্শ ঘনমিটার (স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার) গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতি নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার।
আরও পড়ুনঃ নৈহাটির বড়মার মন্দিরে যুদ্ধের আঁচ, বন্ধ ভোগ বিতরণ
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন মোদী, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম বার। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং অসামরিক পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে জানা গিয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে সে দেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণের পথ নিরবচ্ছিন্ন রাখাকেই নয়াদিল্লি বর্তমানে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তার পরেই ভারতের দিকে হরমুজ় পেরিয়ে শুক্রবার আসছে একটি এলপিজিবোঝাই জাহাজ। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে দেশে এলপিজি নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কমবে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বার বার জানানো হয়েছে, দেশে সঙ্কট নেই। তবু জরুরি পরিষেবা ছাড়া অন্য বিভিন্ন ক্ষেত্র ধাক্কা খেয়েছে। ধাক্কা খেয়েছে হোটেল, রেস্তরাঁর ব্যবসাও।







