বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড় রদবদল করল ভারতে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের মতো দুই গুরুত্বপূর্ণ পদেই নতুন নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে নয়াদিল্লির নির্বাচন সদন৷ নির্বাচনের আগে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার দুপুরের মধ্যেই নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ গতি বাড়াচ্ছে ভারত! দ্রুত ৬জি পরিষেবা চালু হতে পারে দেশে
নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা
ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন দুষ্মন্ত নারিয়ালা। তিনি ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস অফিসার। এতদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের মুখ্যসচিবের দায়িত্বে থাকা নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের বার্তা, সোমবার দুপুর তিনটার মধ্যে নতুন মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।
রাজ্য প্রশাসনিক মহলের মতে, নির্বাচনের সময় রাজ্যের প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে থাকা এই কর্মকর্তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোট পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সরকারি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মুখ্যসচিবের দায়িত্ব থাকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করা।
স্বরাষ্ট্রসচিব পদেও বদল
শুধু মুখ্যসচিব নয়! এদিন আরও এক চমক দিয়েছে কমিশন৷ রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ রাজ্যের নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। তিনি ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার এবং বর্তমানে হোম ও হিল অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে এই পদে ছিলেন জগদীশ প্রসাদ মিনা। তাঁকেও সরিয়ে নতুন নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রসচিবের দপ্তর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই পদে থাকা কর্মকর্তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ বাজল ভোটের ঘণ্টা! মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট লাগু
নির্বাচন কমিশনের কড়া বার্তা
নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক-কে পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছে, সোমবার বিকেল তিনটার মধ্যে নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে দায়িত্ব নিতে হবে। ভোট ঘোষণার পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে এই ধরনের রদবদল নতুন কিছু নয়। অতীতেও বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন কমিশন একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়।
ভোটের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জোরকদমে প্রচার শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের শীর্ষস্তরে পরিবর্তনকে রাজনৈতিক মহলও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। অনেকের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে ভোট প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত৷ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন বরাবরই জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভোটের আগে প্রশাসনিক স্তরে এই বড় পরিবর্তনকে ঘিরে দেশজুড়েই নজর রয়েছে।







