উত্তর কোরিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে দেশের সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ৯৯.৯৯% ভোট পেয়ে বিশাল জয়লাভ করেছেন। ভোটের হার ছিল ১০০ শতাংশের কাছাকাছি। উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি এবং তাদের জোট এই নির্বাচনে মোট ভোটের ৯৯.৯৯% পেয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অবরুদ্ধ পড়াশোনা, C/O কেন্দ্রীয় বাহিনী
বিপক্ষ ভোট কত ভোট (Kim Jong Un)?
সরকারি তথ্যসূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র ০.০৭% ভোট তাঁর বিপক্ষে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার এই জয় অত্যন্ত ব্যাতিক্রমী বলে মনে করছেন রাজনীতির একাংশ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এটি অত্যন্ত বিরল হলেও উত্তর কোরিয়ার কঠোর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে এটি খুব স্বাভাবিক এবং নিয়মিত ঘটনা।
৬৮৭টি আসনের সবকটিতেই জয়ী কিম জং
এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ১৫তম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির সদস্যদের নির্বাচিত করা হয়েছে। মোট ৬৮৭টি আসনের সবকটিতেই ক্ষমতাসীন দল ও তাদের (Kim Jong Un) মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের মূল লক্ষ্য ছিল কিম জং উনের ক্ষমতাকে আরও সুসংহত করা এবং প্রশাসনে নতুন ও অনুগত কর্মকর্তাদের জায়গা করে দেওয়া। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে মাত্র ০.০০৩৭ শতাংশ বিদেশে বা সমুদ্রে কর্মরত থাকার কারণে ভোট দিতে পারেননি, এবং অতি ক্ষুদ্র সংখ্যক প্রায় ০.০০০০৩ শতাংশ ভোটদানে বিরত ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ এবার ‘মেয়ে’ নয় ‘মা’! চূড়ান্ত ঘাস ফুলের ইস্তেহার
সহজ কথায় ১০০% ভোট পাওয়া সাধারণ বিষয়
উত্তর কোরিয়ার এই নির্বাচন মূলত একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। সেখানে কোনো বিরোধী দল নেই এবং ভোটারদের জন্য কোনো বিকল্প প্রার্থীও থাকে না। তাই কিম জং উন বা তাঁর মনোনীত প্রার্থীদের প্রায় ১০০% ভোট পাওয়াটা দেশের জন্য রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি অংশ। বাবা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর ২০১১ সালে কিম ক্ষমতায় আসেন এবং তখন থেকে তিনিই দেশের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। ২০১৯ সালে, উত্তর কোরিয়া তাঁর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার জন্য নিজেদের সংবিধানে পরিবর্তন আনেন। কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান করা হয় এবং সরকার, সামরিক বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তাঁর কর্তৃত্বকে একনায়কতন্ত্র করে তোলা হয়।




