সুদূর প্রবাসে থেকেও মাটির টান আর বাঙালি ঘরকন্নাকে কীভাবে ডিজিটাল পর্দার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেওয়া যায়, তা সফলভাবে দেখিয়েছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মহুয়া। তাঁর পেজ ‘প্রবাসে ঘরকন্না’ আজ শুধু একটি ফেসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেল নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের কাছে এক টুকরো চেনা নস্টালজিয়া। প্রবাসের জীবনযাত্রার পাশাপাশি সহজ-সরল বাঙালি রান্না, উৎসব-অনুষ্ঠান এবং আটপৌরে জীবনের গল্প তুলে ধরে অত্যন্ত অল্প সময়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এই প্ল্যাটফর্মটি। হাজার হাজার অনুরাগী প্রতিদিন মহুয়ার নতুন ভিডিয়োর অপেক্ষায় থাকেন। তবে ডিজিটাল দুনিয়ার এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তা এবার ছুঁয়ে গেল এই সফল পথচলাকে। সম্প্রতি ফেসবুকে করা মহুয়ার একটি পোস্ট অনুরাগীদের মধ্যে বেশ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুনঃ সাবধান বাম-কংগ্রেস-বিজেপি! ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক-সাংসদ, খোদ মমতার ‘নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ’!
সম্প্রতি মহুয়া ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। যেখানে রয়েছেন, তাঁর স্বামী ও তাঁর কন্যা। সঙ্গে মহুয়া তাঁর ফেসবুক পেজে একটি জরুরি বার্তা শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন, বর্তমানে ফেসবুকের অ্যালগরিদম ও নিয়মের বেড়াজালে পড়ে অনেক বড় বড় পেজ ডিলিট হয়ে যাচ্ছে এবং নানারকম কঠোর বিধিনিষেধ বা রেস্ট্রিকশন আসছে। অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান যে, তাঁর নিজের পেজেও কোনও কারণ ছাড়াই দুটি কপিরাইট স্ট্রাইক চলে এসেছে। আগামীদিনে এই পেজটির ভাগ্যে কী ঘটবে, তা নিয়ে তিনি নিজেই বেশ সংশয়ের মধ্যে রয়েছেন।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়া দর্শককূল এবং অনুগামীদের হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা করছেন মহুয়া। তবে পথচলা যাতে থমকে না যায়, সেই জন্য তিনি তাঁর অনুরাগীদের কাছে একটি বিশেষ অনুরোধ রেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইউটিউবেও ‘প্রবাসে ঘরকন্না’ নামে তাঁর একটি একই রকমের চ্যানেল রয়েছে, যেখানে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করা হয়। ফেসবুক পেজের এই সংকটের সময়ে দর্শকরা যাতে তাঁর ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকেন, সেই আর্জি জানিয়েছেন তিনি। ফেসবুকের ওই পোস্টের কমেন্ট বক্সে তিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের লিঙ্কটিও শেয়ার করে দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘বালোচিস্তানের সিংহী’ মাহরাং বালোচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল পাক সরকার
শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যে দর্শকরা মহুয়াকে ভালোবেসে তাঁর পাশে থেকেছেন, এই দুঃসময়েও তাঁরা একইভাবে তাঁর ডিজিটাল যাত্রার সঙ্গী হবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা। ফেসবুকের এই যান্ত্রিক ত্রুটি বা নিয়মের জট কাটিয়ে ‘প্রবাসে ঘরকন্না’ আবারও তার চেনা ছন্দে ফিরবে, এমনটাই প্রার্থনা মহুয়ার হাজার হাজার অনুরাগীর।


