কাতারে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন ১৩ জন কর্মী, যাঁদের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয়। রবিবার গভীর রাতে কাতারের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি কেন্দ্র ‘রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’-র বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন আরও ৬৬ জন। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইরানের বোমাবর্ষণের পর প্ল্যান্টটি যখন পুনরায় চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই এই বিপর্যয় ঘটে। এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্রে খবর, নিহত ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয় নাগরিক বলে শনাক্ত করা গেছে। বাকি একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। আহতদের মধ্যে কাতার, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, কেনিয়া এবং নেপালের নাগরিকরা রয়েছেন। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, আহতদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। কাতারে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা কাতারের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, প্রতি মুহূর্তের খবর তাদের কাছে যাচ্ছে। নিহতদের মরদেহ যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের সাহায্য করা হবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কোন গৌরী সেন ঢালাও ঘোষণার বাজেটে টাকা জোগাবে? গৌরী সেনের ঠিকানা এখনও স্পষ্ট নয়
কাতার এনার্জি-র পক্ষ থেকে জ্বালানি মন্ত্রী সাদ বিন শরিদা আল-কাবি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কোনও নাশকতা বা হামলা নয়; বরং প্ল্যান্ট চালু করার সময় একটি ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’র কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনও গ্যাস লিক হয়নি এবং পরিবেশ বা জনসাধারণের কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
কেন এই প্ল্যান্টটি এত গুরুত্বপূর্ণ?
বারজান প্ল্যান্টটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪০ কোটি কিউবিক ফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, যা কাতারের স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং মরুভূমির মধ্যে জল শোধনাগারের কাজে লাগত। এর সিংহভাগ মালিকানা কাতারের হলেও কিছুটা অংশ রয়েছে মার্কিন তেল কোম্পানি এক্সনমবিলের কাছে।
আরও পড়ুনঃ ‘বিশ্বাস বিশ্বাসঘাতক’; মমতাকে ‘গোল’ দিয়ে মেসিকেও পিছনে ফেলে দিলেন অরূপ
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব
পারস্য উপসাগরের যে বিশাল গ্যাস ক্ষেত্র থেকে কাতার সম্পদশালী হয়েছে, সেটি তারা ইরানের সঙ্গে ভাগ করে। এর আগে মার্চ মাসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই রাস লাফান প্ল্যান্টটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এরপর হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে কাতার সাময়িকভাবে গ্যাস রফতানি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। সম্প্রতি যুদ্ধ থামানোর আলোচনা শুরু হওয়ায় কাতার যখন পুনরায় রফতানি শুরুর চেষ্টা করছিল, তখনই এই অঘটন ঘটল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর ফলে বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে নতুন করে সংকট তৈরি হতে পারে।


