ব্রিটেনের লন্ডনের উত্তরে বেডফোর্ড এলাকায় দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার এই দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ, অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা এবং দমকল বাহিনী। প্রাথমিকভাবে একাধিক যাত্রী আহত হওয়ার খবর মিলেছে, যদিও সরকারি ভাবে এখনও হতাহতদের সংখ্যা জানানো হয়নি।

ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ জানিয়েছে, বেডফোর্ডের কাছে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরই উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ের (EMR) দুটি ট্রেন একই লাইনে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে স্বস্তির বিষয়, ট্রেন দু’টি লাইনচ্যুত হয়নি এবং উল্টেও যায়নি।
ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ে জানিয়েছে, লন্ডন সেন্ট প্যানক্রাস ও লেস্টারের মধ্যে একটি বড়সড় রেল দুর্ঘটনার জেরে পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে থেমসলিংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লুটন ও বেডফোর্ডের মধ্যবর্তী সমস্ত রেললাইন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পূর্ব ইংল্যান্ড অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে একাধিক জরুরি পরিষেবা মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স এবং বিশেষ বিপর্যয় মোকাবিলা দলও রয়েছে। পাশাপাশি বেডফোর্ডশায়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের একাধিক ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ প্রমাণিত মোদী বাণী! যাদবপুরের রিসার্চ স্কলারের বাড়িতে পৌঁছে গেল NIA
দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের পরিবহণ সচিব হেইডি আলেকজান্ডার। তিনি জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ব্রিটেনে ট্রেন দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে ২০২৩ সালে স্কটল্যান্ডের অ্যাভিমোর স্টেশনে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। তার আগে ২০২০ সালে স্টোনহ্যাভেনের কাছে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল।

বেডফোর্ডের এই দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। রেল কর্তৃপক্ষ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। আহতদের অবস্থা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।


