আফগানিস্তানে নিষিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে স্মার্টফোন। ফোন ব্যবহারে এবার কড়া নির্দেশিকা জারি করল তালিবান সরকার । প্রথম ধাপে সরকারি কর্মী-সহ নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অনেকের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই নিষেধাজ্ঞা সাধারণ নাগরিকদের উপরও জারি করা হতে পারে। অর্থাৎ গোটা দেশেই নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে স্মার্টফোন।
আরও পড়ুনঃ রাজ্য জয়েন্টের প্রথম দশে সাউথ পয়েন্টেরই ২ জন; প্রকাশিত মেধাতালিকা
তালিবানের সামরিক আদালতের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ সরকারি কর্মী, কেউই স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। নির্দেশ অমান্য করলে ফোন ভেঙে ফেলা হবে এবং শরিয়তি আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন হলে তালিবান সুপ্রিম লিডারের লিখিত অনুমোদন নিতে হবে।
আফগানিস্তানের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এই নির্দেশ সব জায়গায় একইভাবে কার্যকর করা হচ্ছে না। কোথাও শুধুমাত্র সরকারি কর্মীদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, আবার কোথাও মহিলা, সাধারণ নাগরিক, চিকিৎসাকর্মী, শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের উপরও স্মার্টফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তালিবান হয়তো ধাপে ধাপে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পরে গোটা দেশে স্মার্টফোন ব্যবহারের উপর আরও বড় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ বিরল প্রাকৃতিক ঘটনা! হুগলি নদীতে জোড়া ‘টর্নেডো’
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে আফগানিস্তানে দু’দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল তালিবান সরকার। তবে সেই সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, জরুরি পরিষেবা এবং বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় তালিবান প্রশাসন।
সম্প্রতি পশ্চিম আফগানিস্তানের হেরাত শহরে হিজ়াব বিতর্কে কয়েকজন নারী ও কিশোরীকে গ্রেফতার করা হয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলে তালিবান বাহিনীর গুলিতে অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষোভের সেই ছবি ও ভিডিও বাইরে চলে যাওয়াই তালিবানকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে।
তালিবানের আরেকটি বড় উদ্বেগ হল প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস। অভিযোগ,সরকারি কর্মীরা স্মার্টফোনে গোপন নথি ও বৈঠকের ছবি বা ভিডিও তুলে বাইরে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে বহু তথ্য আগেভাগেই জনসমক্ষে চলে আসছিল। এছাড়া সরকারি কর্মীদের কাজের সময় অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারেও অসন্তোষ রয়েছে তালিবান নেতৃত্বের। তাঁদের দাবি, স্মার্টফোনের কারণে কর্মীদের দক্ষতা কমছে।
হেরাতের দুই সরকারি কর্মী জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরেই তাঁদের অফিসে স্মার্টফোন আনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশ না মানায় অনেকের ফোন বাজেয়াপ্ত করে ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।


