কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
খেলার মাঠে এর আগে বহুবার ট্র্যাকের হার্ডলস পার করেছেন তিনি। তবে জীবনের সবচেয়ে বড় হার্ডল আর পার করা হল না বিশিষ্ট হেপ্টাথলিস্ট ও রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের। দীর্ঘ রোগভোগের পর প্রয়াত হলেন স্বপ্না বর্মনের বাবা পঞ্চানন বর্মন (৬৪)। দীর্ঘকাল ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। শনিবার সকালে শিলিগুড়ির এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার থেকেই তাঁর শরীর নিয়ে সমাজমধ্যমে নানা গুজব উঠেছিল। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গত ৮ দিন ধরে তিনি ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। কিন্তু, অবশেষে আজ যেন স্বপ্নার জীবনের সবথেকে বড় অংশই তাঁর থেকে আলাদা হয়ে গেল।
আরও পড়ুনঃ ‘আপনি সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী’, নিশানায় মোদী; হুংকার মমতার
স্বপ্নের সাফল্যের পিছনে তাঁর বাবার অবদান কোনও অংশেই কম ছিল না। পেশায় রিকশাচালক পঞ্চানন বাবু ২০১৩ সালে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন। এরপর থেকেই যেন স্বপ্নার লড়াই আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ছোটবেলায় অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটলেও বাবা কোনোদিনই অভাব পূরণ হতে দেননি। স্বপ্নার বিশ্বজয়ের পিছনে তাঁর বাবার লড়াই ছিল অপরিসীম। এমনকি ২০১৮ সালে স্বপ্না যখন জাকার্তা এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিলেন, স্বপ্নার বাবার প্রতিক্রিয়া মন জিতে নিয়েছিল সকলের। শনিবার সকালে স্বপ্নার দাদা অসিত বর্মন জানিয়েছেন, বাবা আর নেই। এরপর থেকেই কান্নার রোল উঠেছে পরিবারে। স্বপ্নার মা বাসনা দেবী দিন কয়েক ধরেই ছিলেন ঠাকুর ঘরে। স্বপ্না নিজেও আগের দিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন,”এখন ঠাকুরই ভরসা।” কিন্তু এবার বাবাও চিরনিদ্রায় নিদ্রিত হলেন। বাড়িতে এসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জলপাইগুড়ির তৃণমূল জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ। শেষকৃত্য হবে জলপাইগুড়ির মাসকলাই শ্মশানে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজগঞ্জ থেকে রাজনীতির ময়দানে লড়বেন স্বপ্না। দিন দুই আগেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভ্রামরী দেবী মন্দিরে পুজো দিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছিলেন স্বপ্না। প্রচারে তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কর্মীরা। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঢিঙপাড়া এলাকার বাসিন্দা স্বপ্না এতদিন মাঠের নানা হার্ডল টপকালেও এবার নামলেন রাজনীতির ময়দানে।
আরও পড়ুনঃ চরম সমস্যায় আলু চাষিরা, হিমঘরের সামনে বিক্ষোভ, নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী
তবে বাবাকে নিয়ে চিন্তা ছিলই। আগে থেকেই বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজমাধ্যমে নানা গুজব রটতে থাকে। সে বিষয়েও যে চিন্তায় ছিলেন স্বপ্না, বলেছিলেন আগেই। বাবার মৃত্যু স্বপ্নার জীবনে এক শূন্যতা তৈরি করলেও ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, পঞ্চাননবাবুর এই লড়াই বৃথা যাবে না। আজ হয়ত তিনি সশরীরে উপস্থিত নেই, কিন্তু তাঁর লড়াই ও হার না মানা মানসিকতাই হয়ে উঠবে স্বপ্নার আগামীর পাথেয়।



