চন্দন দাস, কলকাতাঃ
বিধানচন্দ্র রায়কে “বাংলার রূপকার” হিসেবে দেখিয়ে একটা প্রচার বহুদিন ধরেই আছে । ইদানীং আইটি সেল হোয়াটসঅ্যাপে শ্যামাপ্রসাদকে “পশ্চিমবঙ্গের বাবা” বানানোর চেষ্টা করছে । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গকে ভয়ানক বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়ে গেছেন যে লোক টি, তার কোনো খোঁজ বাঙালী রাখে না । এমনকি গুগল করে ওনার একটা ছবিও পাওয়া গেল না ।
আরও পড়ুনঃ এটাও সম্ভব! সল্টলেকে জমির দাম কত? মাত্র ১ টাকা
১৯৫৬ সাল, তখন ভাষা ভিত্তিক রাজ্য গড়া নিয়ে টালমাটাল চলছে । সেসময়ই হঠাৎ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় আর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিং মিলে প্রস্তাব আনেন যে বাংলা আর বিহার রাজ্য দুটো এক হবে, তৈরী হবে নতুন “পূর্ব প্রদেশ” । আজকে অনেকেই রাজ্যের বিভিন্ন অংশে হিন্দিভাষীদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন । ১৯৫৬ সালের সংযুক্তি কার্যকর হলে সেই রাজ্য হতো হিন্দিভাষী মেজরিটি রাজ্য । দেশে বাংলাভাষীদের জন্য কোনো রাজ্য থাকতো না । এরাজ্যের প্রশাসন বর্তমানে অসমের বাংলাভাষী হবু-উদবাস্তু দের এরাজ্যে প্রবেশ ঠেকাতে যে নির্দেশ জারী করেছে, “পূর্ব প্রদেশ” এর প্রশাসন সেটা আরো নির্লজ্জভাবে করতো । হয়তো ১৯৭১ এর কোনো উদ্বাস্তুরই এরাজ্যে ঠাঁই হতো না । ভারতের বাঙালীর নিজভূম বলে কিছু থাকতো না, সবই পরবাস ।
সেই বিপদ আঁচ করে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দল, মূলত বামপন্থীরা প্রতিবাদে নামে । তৈরী হয় সংযুক্তিকরণ বিরোধী সমিতি, তার সভাপতি হন সর্বজনশ্রদ্ধেয় মোহিত মৈত্র্য । আন্দোলনকে শক্তিশালী হতে দেখে বিধান রায় প্রমাদ গণেন । ইতিমধ্যে মেঘনাদ সাহার মৃত্যুতে কলকাতা উত্তর পশ্চিম আসনটি ফাঁকা হয়েছিল । বিধান রায় জানান যে এই উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী হেরে গেলে তিনি সংযুক্তি প্রস্তাব তুলে নেবেন । বিরোধী প্রার্থী হন সংযুক্তিকরণ বিরোধী সমিতির সভাপতি মোহিত মৈত্র্য । কংগ্রেস প্রার্থী হন অশোক সেন । বিধান রায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছিলেন কিন্তু সংযুক্তি বিরোধী হাওয়ায় বিরোধী প্রার্থী জয়ী হন । মাথায় রাখতে হবে কলকাতা উত্তর পশ্চিম ট্র্যাডিশনালি এমন একটা আসন যেখানে অবাঙালীর সংখ্যা অনেক, এবং সেখানে কংগ্রেস বরাবর শক্তিশালী । ১৯৫৬ এর পর সেই আসনে বামপন্থীরা জেতে সেই ২০০৪ সালে । সেই আসনে মোহিত মৈত্র্যর বিপুল জয়ের পেছনে সংযুক্তি বিরোধী আন্দোলনে তার সফল নেতৃত্বর ভুমিকা অন্যতম ।
আরও পড়ুনঃ ফের রদবদল! এবার ৭৩ রিটার্নিং অফিসারকে বদলি কমিশনের
এই হারের পর বিধান রায় সংযুক্তির প্রস্তাব থেকে সরে আসেন ।
সংযুক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সেনাপতি মোহিত মৈত্র্য আজকে বিস্মৃতপ্রায় । গুগল করলে তার ছবি মেলে না, উইকিতে তার নামে পেজ ও নেই । কিভাবে তিনি বাংলা ও বাঙালীকে নিজভূমে পরবাসী হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন সেই ইতিহাস নিয়েও চর্চা নেই ।



