ফের দেশের রান্নার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করল সরকার। এবার থেকে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের জন্য পিএনজি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেউ যদি সরকারি নিয়ম না মানে, তাহলে ৩ মাস পর বন্ধ হতে পারে এলপিজি সরবরাহ।
আরও পড়ুনঃ হুগলির পোলবায় অদ্ভুত ঘটনা, সিলিন্ডার থেকে গ্যাস নয় বেরচ্ছে জল
কী নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে সরকার
দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের জেরে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (LPG) সরবরাহে যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলা করতে ও দেশজুড়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস (PNG) পৌঁছে দিতে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্র সরকার ‘ন্যাচারাল গ্যাস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউশন অর্ডার ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের (Essential Commodities Act, 1955) আওতায় এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে
পিএনজি সংযোগ বাধ্যতামূলক: নির্দিষ্ট গ্রাহকদের জন্য এখন থেকে পাইপলাইনের গ্যাস বা PNG নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এলপিজি সংযোগ বিচ্ছিন্ন: যদি কোনও গ্রাহক নির্ধারিত এলাকায় থেকেও পিএনজি সংযোগ না নেন অথবা সংযোগে বাধা দেন, তবে ৩ মাস পর ওই ঠিকানায় এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
আবাসনের জন্য কড়া নিয়ম: হাউজিং সোসাইটি বা আরডব্লিউএ (RWA)-কে পাইপলাইন পাতার জন্য আবেদন পাওয়ার ৩ কার্যদিবসের মধ্যে অনুমতি দিতে হবে। অনুমতি দিতে দেরি করলে সংশ্লিষ্ট আবাসনগুলোর এলপিজি পরিষেবা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
দ্রুত ছাড়পত্র: পাইপলাইন পাতার কাজে সরকারি বা স্থানীয় পুরসভাগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (১০ থেকে ৬০ দিন) অনুমতি দিতে হবে। অন্যথায় সেটিকে ‘স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন’ বা ‘Deemed Clearance’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
আরও পড়ুনঃ গাজিয়াবাদ গুপ্তচর কাণ্ডে পাকিস্তানের বড় ষড়যন্ত্র ফাঁস
কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মোদি সরকার ?
ইরান-ইজরায়েল য়ুদ্ধের অস্থিরতার কারণে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করলে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে এবং সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা কমবে। এছাড়া, এই নতুন নিয়মের ফলে পাইপলাইন পাতার কাজে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে ও পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে।
LPG Crisis : সোমবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) মুখেই শোনা গিয়েছিল আশঙ্কার কথা। খোদ মোদি জানিয়েছিলেন, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের কারণে বড় জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে বিশ্বে। যে কারণে কঠিন সময়ের মুখে পড়তে পারে দেশ। এই সময়ে সবাইকে একজোট হয়ে থাকতে হবে। এবার সেই একই কথা শোনা গেল RTI আবেদনের পর। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের থেকে আরটিআই-এর উত্তরে এই তথ্য় পেয়েছে ‘ইন্ডিয়া টুডে’।



