কাল সন্ধে সাড়ে ৬টায় সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর। অবশ্য ৫ ভোটের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা থাকবেন না। কিন্তু আচমকা বৈঠক কেন? গতকাল সর্বদল বৈঠক হয়েছিল কিন্তু
আমি একটা থিওরি দিচ্ছি মাত্র, যা আগেও দিয়েছিলাম। সত্য়ি নাও হতে পারে। আশঙ্কা। আবার প্যানিক ছড়ানোর দায় দেবেন না যেন!! আশঙ্কা এনার্জি লকডাউন নিয়ে। বা আংশিক এনার্জি লকডাউন। কী বিষয়টা?
আরও পড়ুনঃ ফিরে আসছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম, অনলাইন ক্লাস? ধেয়ে আসছে লকডাউন ২.০! ত্রস্ত গোটা ভারত
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি। কোন দিকে যাবে যুদ্ধ, কেউই জানে না। কিন্তু সবাই এটা বুঝতে পারছে, এভাবে চললে বিপদ। প্রত্যেকের বিপদ। আর সেই বিপদের আঁচ পড়তে শুরু করেছে। আমাদের পড়শি দেশগুলো দেখুন।
শ্রীলঙ্কা,বাংলাদেশ,ভুটান,পাকিস্তান সহ একাধিক দেশে ইতিমধ্যেই জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। সরকারি দফতরের সময়সীমা কমানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক ছুটি, এমনকি যান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে কোভিডকালীন সময়ের তুলনা টেনে চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাহলে কি ফের লকডাউন? আজকে ভোট প্রচারে মুখ্যমন্ত্রীও এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন
সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী কোভিডের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর ইঙ্গিত,সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়তে পারে। এর পরেই প্রশ্ন ওঠে, জ্বালানি বাঁচাতে কি লকডাউনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে?
এনার্জি লকডাউন?
বিশেষজ্ঞদের মত, সরকার এখনই সার্বিক এনার্জি লকডাউনের পথে হাঁটবে না। তবে পরিস্থিতি ঘোরালো হলে বিকল্প কিছু পথ খোলা রয়েছে। সেক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ হতে পারে?
রোলিং ব্ল্যাকআউটের কথা ভাবা যেতে পারে। সরকার হুট করে সব বন্ধ করবে না। এলাকাভিত্তিক গ্রিড ভাগ করে দেবে। ভোরে এক জায়গায়, তো দুপুরে অন্য জায়গায় ৩-৪ ঘণ্টার লোডশেডিং বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। এতে গ্রিডের ওপর চাপ কমবে। এটাকে বলা হয় সিস্টেমেটিক লোড শেডিং।
রাতের বেলা শপিং মল, মাল্টিপ্লেক্স বা বড় বিলবোর্ডের আলো নেভানোর নির্দেশ আসতে পারে। ইউরোপে অনেক দেশ ইতিমধ্যেই এই কাজ শুরু করেছে। রাত ১০টার পর হাই-ভোল্টেজ আলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ করে সেই বিদ্যুৎ বাঁচিয়ে রাখা যেতে পারে ডোমেস্টিক বা হাসপাতাল সার্ভিসের জন্য।
সরকার অ্যাডভাইজরি জারি করতে পারে যে পিক আওয়ারে অর্থাত্ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা, এসি, গিজার বা মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি স্মার্ট মিটারিং থাকলে সরকার দূর থেকেই কোনো নির্দিষ্ট এলাকার এসি লাইনের লোড কমিয়ে দিতে পারে।
ভারী শিল্প বা ফ্যাক্টরিগুলোতে সপ্তাহে ২ দিনের জায়গায় ৩ দিন ছুটি ঘোষণা হতে পারে। অথবা তাদের বলা হতে পারে কেবল অফ-পিক আওয়ারে অর্থাত্ রাত ১২টার পর কাজ করতে। এতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিমান্ড কমলে সাধারণ মানুষের ঘরে আলো থাকবে।
কোভিডের মতো আবার অফিসগুলোতে ওয়ার্ক ফ্রম হোম বাধ্যতামূলক হতে পারে। কারণ কয়েক হাজার এসি আর লিফট চলা বড় বড় আইটি পার্ক বা অফিস বিল্ডিং মানেই বিপুল বিদ্যুতের অপচয়। মানুষ বাড়িতে থাকলে ডিসেন্ট্রালাইজড এনার্জি কনজাম্পশন হবে, যা ম্যানেজ করা সহজ।
রাস্তার প্রতি দুটো লাইটের একটা নেভানো থাকবে। রাত ১২টার পর পাবলিক পার্ক বা মনুমেন্টের আলো সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হতে পারে.
আরও পড়ুনঃ যুদ্ধ-আবহের প্রস্তুতি; আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
অর্থাত্ এখনই সম্পূর্ণ এনার্জি লকডাউনের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে মোদী সরকার যদি দেখে পরিস্থিতি সামলানো যাচ্ছে না, জনগণকে দিয়ে এনার্জি সেভিং করানোর চেষ্টা করবে।
কিন্তু আদৌ এটাই হবে কী না নট শিওর। হয়ত বেশি ভাবছি। কিন্তু হাওয়া ভালো না। আর এতে সরকারকে গাল দিয়ে লাভ নেই। গোটা বিশ্বের একাধিক দেশ এই পথেই হেঁটেছে বা হাঁটছে।
এসবে প্যানিকের মতো কিছু আছে বলে মনে হয় না । হলে হবে । সেভাবে আমরা সামলাবো । কোভিড সামলেছি, এত তুচ্ছ



