ত্রিবর্ণ পতাকায় মোড়া দেহ, শেষ শ্রদ্ধায় ভিড় —মুম্বইয়ে কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলেকে বিদায় জানাতে আবেগে ভাসল দেশ। উপস্থিত সচিন থেকে আমির খান। চোখে জল সকলের!
সোমবার তাঁর বাসভবনে রাখা হয় দেহ, সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হন পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র জগতের বহু পরিচিত মুখ, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং অসংখ্য অনুরাগী। চোখের জলে বিদায় জানান সকলে। দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা। গোটা পরিবেশ এদিন ছিল গম্ভীর ও স্তব্ধ। নীরবতা, প্রার্থনা আর আবেগে ভরা এক আবহে চলে শেষ শ্রদ্ধা জানানো।
আরও পড়ুনঃ স্তব্ধ মায়ানগরী, নীরব সুরের ভুবন; ‘কাসা গ্র্যান্ডে’ শোকের ছায়া
পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি একের পর এক শিল্পী, সহকর্মী এবং ভক্তরা এসে শেষবারের মতো প্রণাম জানান। দুপুরের পর বাসভবন থেকে তাঁর দেহ ফুলে সাজানো গাড়িতে বের হয় শিবাজি পার্কের উদ্দেশে। শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত গাড়ি সেখানে পৌঁছে গেছে। অসংখ্য মানুষ সেখানেও ভিড় জমিয়েছেন।
রবিবার ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হন এই প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আট দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত তাঁর সংগীতজীবনের অবসানে ভারতীয় সংগীত জগতে নেমে এসেছে গভীর শূন্যতা।
ভারতীয় সংগীতে আশা ভোঁসলের অবদান অনস্বীকার্য। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে গজল, ক্যাবারে থেকে আধুনিক—সব ধরনের গানেই সমান সাবলীল ছিলেন তিনি। গানের সংখ্যা এবং বৈচিত্র—দুই ক্ষেত্রেই ছিলেন অনন্য। তাঁর নাম রয়েছে সর্বাধিক স্টুডিও রেকর্ডিংয়ের বিশ্বরেকর্ডে।
আরও পড়ুনঃ এই গান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল দূরদর্শনে! ভাবতে পারেন
দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে মিলেই হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতের সোনালি যুগ গড়ে তুলেছিলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে বদলে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে সকলের থেকে আলাদা করেছে বরাবর।
গোটা কেরিয়ারের শুরুটা হয়েছিল শৈশবে, বাবার মৃত্যুর পর। তারপর দীর্ঘ পথচলায় একের পর এক সাফল্য, স্মরণীয় গান আর অগণিত অনুরাগী—সব মিলিয়ে গড়ে ওঠে এক অমলিন উত্তরাধিকার। তাঁর প্রয়াণে সেই অধ্যায়েরই অবসান কিন্তু রয়ে গেল তাঁর গান, যা বেঁচে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।



